Bharati Ghosh IPS

ওয়েবডেস্ক: বছর শেষের রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় বিতর্কিত আইপিএস ভারতী ঘোষকে ঘিরে। রাজ্যকে তাঁর আচমকা ইস্তফাপত্র প্রেরণ এবং সর্বোপরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন, রাজনৈতিক বটেই প্রশাসনিক মহলেও রীতি মতো ঝড় তুলেছে। কিন্তু একদা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ট এই আইপিএস অফিসার তৃণমূল-বিদ্বেষী হয়ে উঠলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে বহুবিধ উত্তর।

হাতে গোনা ক’দিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদ থেকে ভারতীদেবীকে বদলি করা হয়েছিল বারাকপুরের তৃতীয় ব্যাটেলিয়ানে। এই পদোবনতিতে যারপরনাই অখুশি হন তিনি। এর পরই নতুন পদে যোগ না দিয়ে তিনি ইস্তফাপত্র এবং তিন মাসের ছুটির আবেদন করেন রাজ্যের কাছে। এর পরই শোনা গেল, তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং পৃথক ভাবে মুকুল রায়কে চিঠি পাঠিয়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এ কথা নতুন নয়, বছর কয়েক আগেও প্রশাসনের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক যোগসূত্র রক্ষায় মুকুলবাবু ছিলেন অদ্বিতীয়। সেই সময় থেকেই ভারতীদেবীর সঙ্গে মুকুলবাবুর সম্পর্ক এগিয়েছে মসৃণ ভাবেই। এখনও  মুকুলবাবুর সঙ্গে সেই সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও তিনি আর তৃণমূলে নেই। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতীদেবীর বিজেপি-টানের অন্য কোনো উৎস না খুঁজলেও চলে। তাই বলে যে মমতাকে তিনি এক সময় ‘জঙ্গল মহলের মা’ হিসাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরতে দ্বিধা বোধ করতেন না, সেই তিনি কেন এতটাই ত‌ৃণমূল-বিমুখ হয়ে উঠলেন?

উত্তরে মিলছে বহু মতের সমাহার। একটি সূত্র বলছে, ভারতীদেবীর বিরুদ্ধে বিশেষ একটি ফৌজদারি মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই মামলা নিয়ে তিনি নাকি ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সেই সমস্যা সমাধানে তিনি হয়তো মমতাকে হস্তক্ষেপের আবদার জানিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু তৃণমূলের একটি প্রভাবশালী মহল ভারতীদেবীর সাম্প্রতিক আচরণে বিরক্ত প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে মুকুলবাবুর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক আঁতাঁত নিয়েও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন ধরেই। এই বিষয়টিকেই কোনো মতেই প্রশ্রয় দিতে চায় না তৃণমূলের ওই প্রভাবশালী অংশ।

ওই সূত্রের জোরাল দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্রম উত্থান এবং কেন্দ্রে তাদের একচ্ছত্র শাসন ভারতীদেবীকে আকৃষ্ট করে থাকতে পারে। যে কারণে ওই ফৌজদারি মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ছক কষে ফেললেন!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here