বঙ্গ-রাজনীতির বাজার গরম করতেই কি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’, না কি সমান্তরাল সিস্টেম গড়তে চাইছে বিজেপি

0

কলকাতা: কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। শুরু হচ্ছে পুলিশি তদন্ত। এরই মধ্যে মামলা গড়াচ্ছে হাইকোর্টে। আদালতের রায়ে তদন্তের ভার যাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে। তার পরও দলীয় কমিটি গড়ে ‘ফ্যাক্ট’ খোঁজার কাজ করছে বিজেপি। সবমিলিয়ে প্রশ্ন, তা হলে কি তদন্ত এবং বিচার ব্যবস্থার সমান্তরাল কোনো সিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছে কেন্দ্রের শাসক দল?

সিবিআই রিপোর্টের বিকল্প কী?

বীরভূমের বগটুইয়ে গণহত্যার পর এ বার নদিয়ার হাঁসখালিতে ধর্ষণের ঘটনাতেও ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ পাঠিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দুই টিম-ই নিজেদের রিপোর্ট পেশ করেছে নেতৃত্বের হাতে। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশে দুই জায়গাতেই তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই।

তবে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব বরাবরই সাফ জানিয়ে আসছেন, সিবিআই নিজের মতো তদন্ত করবে। তাতে বিজেপি-র কোনো হস্তক্ষেপের প্রশ্নই নেই। কিন্তু রাজ্যে ঠিক কী ঘটে চলেছে, সেটা সারা দেশের জানা দরকার। অন্য রাজ্যের প্রতিনিধিরা এখানে এসে সেটাই জানতে পারবেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশ্ন এখানেই। বিজেপি যদি সারা দেশের কাছে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে চায়, তা হলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত রিপোর্টের তো কোনো বিকল্প হতে পারে না।

হাঁসখালি: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং

দলের পাঁচ মহিলা জনপ্রতিনিধি এবং এক নেত্রীকে নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি করেছিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা। উত্তরপ্রদেশের সাংসদ রেখা বর্মা, যোগী রাজ্যের মন্ত্রী বেবিরানি মৌর্য, তামিলনাড়ুর বিধায়ক তথা মহিলা মোর্চার সর্বভারতীয় সভানেত্রী বনথি শ্রীনিবাসন, মহারাষ্ট্র বিজেপির নেত্রী খুশবু সুন্দর এবং রাজ্যের ইংরেজবাজারের বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীকে নিয়ে গঠিত কমিটি গত শুক্রবার সেই কমিটি হাঁসখালি পরিদর্শন করে।

সেই কমিটির প্রতিনিধিরা বুধবার নয়াদিল্লিতে তাঁর কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রিপোর্টে জানানো হয়েছে,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ধর্ষণের বাড়ছে রাজ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আছে।

বগটুই: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং

বীরভূমের রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে চলতি মাসের ২১ তারিখে ঘটেছিল নৃশংস গণহত্যা। মহিলা, শিশু-সহ ন’জনকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। ওই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গড়েছিলেন নড্ডা। কমিটির রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পেশ করা হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির কাছে। ওই রিপোর্টে সই ছিল সাংসদ ব্রিজলাল, সত্যপাল সিংহ, কেসি রামামূর্তি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও জাতীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষের।

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল বিজেপি-র রিপোর্টে। বলা হয়, “বগটুই গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে, তা রাজ্য সরকার অনুমোদিত তোলাবাজির পরিণাম ছাড়া আর কিছুই না। গুন্ডা ট্যাক্স, কাটমানি, তোলাবাজির ফলে এই ঘটনা ঘটেছে”।

‘ফ্যাক্ট’ খুঁজছে তৃণমূল

বিজেপি-র এ ধরনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম নিয়ে প্রথম থেকেই তোপ দাগছে তৃণমূল। রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যা অস্বাভাবিক নয়। বিজেপি-শাসিত কোনো রাজ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে কেন ফ্যাক্ট খোঁজা হয় না, সে সব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল।

তবে বুধবার হাঁসখালি-কাণ্ডের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট জমা পড়ার আবহে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। যিনি কয়েক সপ্তাহ আগেই বিজেপি ছেড়ে নিজেকে তৃণমূলে জুড়েছেন। তাঁর কথায়, “সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ভয়ানক অশনি সংকেত দিচ্ছে বিজেপি। তাদের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থার উপর ভরসা না করে নিজেদের আলাদা তদন্ত ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে। এ এক ভয়ঙ্কর খারাপ সংকেত। কে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। তাদের অধিকারটা কী? সাংবিধানিক জায়গাটা কোথায়। কী মূল্য আছে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির”?

তিনি আরও বলেন, “এ ভাবে চলতে থাকলে হয়তো দেখা যাবে, ভারতের আইন ব্যবস্থা সরিয়ে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা সারা দেশে বিজেপি-র আইন ব্যবস্থা জারি করবেন”!

অন্য দিকে, বগটুই-রিপোর্টের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, “নড্ডার কাছে দেওয়া বিজেপির ওই রিপোর্ট প্রতিহিংসামূলক। যাঁরাই বিজেপি-র বিরোধিতা করছে, ওরা সবাইকে গ্রেফতার করতে চায়। এ ভাবেই সবার মুখ বন্ধ করতে চাইছে বিজেপি। আমি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাবের তীব্র নিন্দা করছি”।

আরও পড়তে পারেন:

দিল্লির বাইরে আরও কিছু রাজ্যেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, পশ্চিমবঙ্গকেও তৈরি থাকতে হবে

ভারতে নতুন করে আক্রান্ত ২,৩৮০, বাষট্টি শতাংশই দিল্লি-হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশে

দিল্লিতে সংক্রমণ হাজার ছাড়ালেও এটা চতুর্থ ঢেউয়ের আগমন নয়, মনে করেন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ

ঘর ভেঙেছে বুলডোজার, ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে মহিলার আর্তনাদ, জহাঙ্গিরপুরীর সেই হৃদয়বিদারক ভিডিও

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন