উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজ্য বিজেপিতে রদবদলের জল্পনা

ওয়েবডেস্ক: তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন কার্যত শুনশান রাজ্য বিজেপির সদর দফতর। কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর এবং খড়গপুর সদরে লোকসভা ভোটের হিসেব গোলমাল পাকিয়ে বিপুল ভোটে জিতে গিয়েছে তৃণমূল। এমনকী তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ২১ বছরে এই প্রথম বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত খড়গপুর সদরে প্রথমবার জয় পেয়েছে রাজ্যের শাসক দল। যে কারণে ফলাফল ঘোষণার পরই রাজ্য বিজেপির অন্দরে উঠছে প্রশ্ন, তা হলে কি এ বার দলের সভাপতিপদ থেকে ইস্তফা দেবেন দিলীপ?

মাস ছয়েক আগের ঘটনা। গত লোকসভা ভোটে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে শাসক দল তৃণমূল ২২টি এবং বিরোধী দল বিজেপি ১৮টিতে জিতেছিল। গতবার মাত্র ২টি আসনে জেতা বিজেপি ১৮-য় পৌঁছে গিয়ে কার্যত আত্মহারা হয়ে যায়। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ না রেখে তাঁর মেয়াদও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সংসদে চলে যাওয়ার পরেও নিজের ছেড়ে আসা বিধানসভা কেন্দ্রে খড়গপুর সদরের উপনির্বাচনে বিজেপির মূল কান্ডারি ছিলেন তিনিই। কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই দলেরই একাংশ তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ইতিউতি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি খড়গপুর সদরে জিতেছিল দিলীপকে প্রার্থী করেই। গত লোকসভা ভোটেও বিধানসভা-ভিত্তিক ফলাফলে বিজেপি খড়গপুর সদরে এগিয়ে ছিল ৪৫,১২৩ ভোটে।কিন্তু মাস ছয়েক পরেই উপনির্বাচন আমূল বদল। কী কারণে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে এক বিজেপি নেতা বলেন, খড়গপুর সদরে বিজেপির ভরাডুবির মূল কারণ প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলীয় কোন্দল। প্রার্থী বাছাইকে কেন্দ্র করে ভোটের আগেই এলাকার এক প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তার একটা বড়ো প্রভাব রয়েছে।

অন্য দিকে এমনটাও শোনা যায়, খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী প্রেমচন্দ্র ঝা ছিলেন রাজ্য সভাপতির নিজস্ব পছন্দ। প্রার্থী বাছাই নিয়ে অন্য কোনো মত যে কারণে ধোপে টেকেনি।

খড়গপুর সদরের ভোটপ্রচারে দিলীপ ঘোষ

তৃতীয় অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, লোকসভা ভোটে ১৮টি আসনে জেতার পর থেকেই দিলীপের কথাবার্তা এবং শারীরিক ভাষা বিজেপি সমর্থকদের একাংশকে বিমুখ করে তুলেছে। এনআরসির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২ কোটি বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর কথা বলে তিনি যে শুধু ভুল নয়, অন্যায় করেছেন, সেটাই মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন ভোটের বাক্সে।

[ আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের ফলাফল আপডেট ]

দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হতে চলেছে। উপনির্বাচনের শোচনীয় ফলাফল রাজ্য সভাপতিপদ থেকে দিলীপকে অপসারণের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। আবার এমনটাও শোনা যাচ্ছে, তার আগেই হয়তো ইস্তফাও দিতে পারেন তিনি।

এ দিনই ইঙ্গিতবাহী ভাবে তিনি বলেন, “এখন আমাদের পার্টির নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে৷ অনেক নতুন নতুন মুখ আসবে৷ নতুন উৎসাহে তাঁরা কাজ করবেন”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.