CPIM

ওয়েবডেস্ক: শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডে অংশ নিয়েছে এমন বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল যেগুলি বর্তমানে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সহযোগী অথবা আগামী লোকসভা ভোটে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াইয়ে আগ্রহী। ফলে এ রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার পর বামেদের ব্রিগডে কি তাদের ডাকা হতে পারে?

এমন প্রশ্নের উত্তরের খোঁজ চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। বিশেষ করে শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠকে সিপিএম নেতৃত্ব শরিক দলের নেতৃত্বর কাছে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিমত চান। তেমন প্রশ্নের উত্তরে শরিকদের দলের বৃহদাংশের তরফে সরাসরি আপত্তি তোলা হয় বলে জানা গিয়েছে। তারা সরাসরি জানিয়ে দেয়, কংগ্রেস, এনসিপি, ডিএমকে আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির মতো সহযোগী দলগুলির জাতীয় নেতারা শনিবার তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশে অংশ নেওয়ায় তাদের আর বাম ব্রিগেডে ডাকা অর্থহীন।

Loading videos...

যদিও এ রাজ্যের পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন। বাংলায় বামফ্রন্টের সঙ্গে গত ২০১৬ সালেও জো‌ট গড়েছিল জাতীয় কংগ্রেস। ক্ষমতায় তৃণমূল ফিরলেও একাধিক ইস্যুতে বাম-কংগ্রেস আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। কি বিধানসভা, কি বিধানসভার বাইরে-সর্বত্রই বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বকে একত্রে সরব হতে দেখা গিয়েছে। শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে সে অর্থে জোট না হলেও শাসক দলের দাপাদাপি প্রতিরোধে দুই পক্ষই একত্রে রুখে দাঁড়িয়েছে। সেই জায়গা থেকে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল-বিজেপি দ্বিফলা আক্রমণে #বামফ্রন্ট একা চলবে কি না, সে বিষয়েও গভীর আলোচনা চলছে বামফ্রন্টের অন্দরে। তার উপর সামনে রয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বামফ্রন্টের ব্রিগেড সমাবেশ।

ও দিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আগামী লোকসভা ভোটে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার আগ্রহ একাধিক বার প্রকাশ করেছেন। ফলে ভবিষ্যতের কৌশল বজার রাখতে সৌজন্যতাবশত রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসকে আমন্ত্রণ জানানোও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রকট না হলেও বঙ্গ-সিপিএমের একাংশ ইতিমধ্যেই অনীহা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের বক্তব্যও বেশ ইঙ্গিতবাহী। তৃণমূলের ব্রিগেডে কংগ্রেসের দূত প্রেরণের পর তিনি মন্তব্য করেছেন, এ ব্যাপারে এখনই কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত না নিয়ে তিনি পর্যবেক্ষণেই বেশি করে জোর দিতে চান। এরই মধ্যে বামফ্রন্টের অন্যান্য শরিক দলগুলিও নিজের নিজের লোকসভা আসনে প্রার্থী দিতে উৎসুক। স্বাভাবিক ভাবেই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের মধ্যে বিতর্ক বাঁধতেই পারে।

সব মিলিয়ে আপাতত ৩ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য সহযোগী দলগুলিকে না ডাকার পাল্লা ক্রমশ ভারী হচ্ছে বলেই আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর। বিশেষ করে তৃণমূলের ব্রিগেডে এসে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বিধানভবনে বসে জোট পরিকল্পনা নিয়ে #যে মত ব্যক্ত করেছেন, তার পরে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার দিকেই ঝুঁকছে সিপিএম নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.