bjp
গ্রাম পঞ্চায়েত

ঝাড়গ্রাম: তৃণমূল- ৩৭৩, বিজেপি-৩৩০, আদিবাসী মঞ্চ-৬৩
পুরুলিয়া: তৃণমূল-৮৩৮, বিজেপি-৬৪৪, আদিবাসী মঞ্চ-১০০

পঞ্চায়েত সমিতি

ঝাড়গ্রাম: তৃণমূল-১১২ ,বিজেপি-৬৫, আদিবাসী মঞ্চ-৬
পুরুলিয়া: তৃণমূল-২৩৪ ,বিজেপি-১৪২, আদিবাসী মঞ্চ-৫

বিশেষ প্রতিনিধি: সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে কি মাওবাদীরা পরোক্ষ ভাবে সহযোগিতা করছে বিজেপিকে? এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজ এখনও চলছে। ফলাফল ঘোষণার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির রেশ ধরেই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা আতসকাচে ধরার চেষ্টা করেছেন সেই সম্ভাবনাকে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠা করেছে সিপিআই (মাওবাদী)-র মদতপুষ্ট আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের সঙ্গে বিজেপির একটি আসন সমঝোতা নিয়েও। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়, পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড-ছত্তীসগঢ়ে যখন মাওবাদীরাই বিজেপি সরকারের মূল প্রতিপক্ষ সেখানে ঢিল ছোড়া দূরত্বে কী ভাবে বাংলা বিজেপি মাওবাদীদের সঙ্গে সমঝোতার পথে গেল?

শুধু তৃণমূলনেত্রী নন, ঝাড়গ্রামের সিপিআই (এমএল)-এর নেতা নিরঞ্জন বেরা দাবি করেছেন, আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের নেপথ্যে রয়েছে আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল। একই ভাবে মাওবাদীরা মঞ্চকে শক্তি জুগিয়েছে। এমনকি রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের কর্তাদের দাবি, পঞ্চায়েত ভোটের আগে মাওবাদীরা আদিবাসী মঞ্চকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে। যদিও মজার ব্যাপার হল, ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের সঙ্গে মাওবাদীদের বিরোধ বরাবরের। মাওবাদীদের দাবি, ওই সংগঠনটি আদিবাসীদের মধ্যেকার মোড়লশ্রেণি ও চিরাচরিত ক্ষমতাবান শ্রেণির সংগঠন। তাঁদের স্বার্থ শ্রমজীবী-নিপীড়িত আদিবাসীদের স্বার্থের বিরোধী। ফলে নতুন তৈরি হওয়া আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের অন্তর্নিহিত রসায়ন নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। গোয়েন্দা দফতরের দাবিকেও বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়াটা হয়তো ঠিক নয়।

পরিংসখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বাস মাত্র ৬ শতাংশ। সেখানে ঝাড়গ্রামে ওই হার প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি। অন্য দিকে বিজেপি সারা রাজ্যে মোট আসনের ১৮ শতাংশে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে পারলেও ঝাড়গ্রামে তাদের দখলে এসেছে ৪৮ শতাংশ আসন। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস গ্রাম পঞ্চায়েতের নিরিখে সারা রাজ্যে গড়ে ৬৬ শতাংশ আসনে জিতলেও ঝাড়গ্রামে গিয়ে তা ঠেকেছে মাত্র ৪৮ শতাংশে।

পুরুলিয়ার ক্ষেত্রেও একই ছবি ধরা পড়েছে। পুরুলিয়ায় আদিবাসীদের উপস্থিতির হার ২০ শতাংশ। ভোটের ফলাফলে বিজেপি ও তৃণমূলের প্রাপ্ত আসনের হার যথাক্রমে ৩৩ ও ৪৩ শতাংশ।

ভোটের আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একটি আসনে আদিবাসী মঞ্চের সঙ্গে আসন সমঝোতায় গিয়েছিলেন। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, সেটা ছিল একটা মৌখিক ব্যাপার। যে হেতু বিজেপি এবং মঞ্চের প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল, সে কারণেই তাঁরা ওই সমঝোতায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সমঝোতা মৌখিক হলেও তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও যে বিজেপির রয়েছে, সে কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। তবুও মমতার দাবিকে তিনি মান্যতা দিতে নারাজ। উলটে তাঁর পালটা প্রশ্ন, ওই এলাকায় যখন তৃণমূল ভালো ফল করত, তখন কি তারা মাওবাদীদের সহযোগিতা নিত?

কী বলছেন স্থানীয় মানুষ? একাংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ার যে এলাকায় বিজেপির সঙ্গে মঞ্চের সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলি মূলত দুর্গম এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। যেমন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের এক কোণে কয়েকটি এলাকায় মঞ্চের প্রভাব রয়েছে। সেখানে আদিবাসীদের চরম দুর্দশা। অতীতে যে কোনো রাজনৈতিক দলই আদিবাসীদের ভোট কবজা করতে হরেক প্রতিশ্রুতির অবতারণা করেছে। কিন্তু ভোট মিটলেই সব হাওয়া। স্বাভাবিক ভাবে আদিবাসী মঞ্চের মাধ্যমে নিজেদের দাবি আদায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ওই এলাকাগুলিতে। বিজেপি বা তৃণমূল, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাময়িক আঁতাঁত যদি হয়েও থাকে মঞ্চের আন্দোলন যে স্বকীয় পথেই এগোবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সমর্থকরা।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, ঝাড়গ্রামের শহর লাগোয়া যে এলাকাগুলিতে বিজেপির জয়জয়কার, বিশেষ করে শালবনিতে যেখানে আটে আট গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল বিজেপি, সেখানেও কি মাওবাদের গন্ধ রয়েছে? প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। কারণ, গত সাত বছরে ওই সব এলাকার বাসিন্দদের মন থেকে মাওবাদী নামক ‘জুজু’ নিকেশ হয়ে গিয়েছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেস সহ সংসদীয় দলগুলির দাবি।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here