Political Murder

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের শান্তি বজায় রাখতে সময় থাকতে কড়া ব্যবস্থা না নিলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতোই ভুগতে হতে পারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হয়তো তাসের ঘরের মতো ভাঙতে পারে জঙ্গলমহলের শান্তির বাতাবরণ, সমসাময়িক ঘটনাবলির দিকে তাকিয়ে মত স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ক্ষেত্রে একদা বাংলার ‘চম্বল’ ঝাড়গ্রামের জামবনির কথা বাদ দিলেও স্মরণীয় ২০০১ সালে বেলপাহাড়ির বাম কর্মী সুধীর সিং সর্দারের খুনের ঘটনা। এলাকায় মাওবাদী অস্তিত্বের খবর নিয়ে কানাঘুষো চললেও আলিমুদ্দিন থেকে সে দিন বার্তা আসে, মাওবাদী-টাওবাদী নেই, ওখানে ঝাড়খণ্ডীরাই যা কিছু করছে। অর্থাৎ সে সময় থেকে একটু একটু করে জাল ছড়াতে শুরু করে মাওবাদীরা। তবে গোটা এলাকায় জাল বিছোতে মাওবাদীদের সময় লেগেছিল আরও বেশ কয়েক বছর। যে সময় সরকারের ব্যাপারটা বোধ‌গম্য হল, ততক্ষণে পরিস্থিতি চলে গিয়েছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পরিণতিতে যা ঘটল- ক্ষমতা তো গেলই, একই সঙ্গে তিনশোরও বেশি ছাপোষা দলীয় কর্মী খুন হলেন।

সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের সভায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগাম সতর্কতা স্বরূপ ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের প্রসঙ্গত তুলেছেন। ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। সেখানে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এ রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করার জন্য বিজেপি পড়শি রাজ্যের সহযোগিতা পাবে। বেশ কয়েক বছর ধরে জঙ্গলমহলের কেন্দ্রবিন্দু ঝাড়গ্রামের পরিবেশ শান্তই ছিল। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন ও পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত ভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ক’দিন আগে জামবনির দুবড়ায় তৃণমূল নেতা চন্দন ষড়ঙ্গী খুন হলেন। তাঁর খুনে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন জঙ্গলমহলের অধিবাসীরা।

Political-Murder 2
২০০২ সালে জামবনির দুবড়া-তে চন্দন ষড়ঙ্গীর বাবা মোহিনী ষড়ঙ্গী, শিশির শতপথী ও শিবানী শতপথীর মৃতদেহ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের মাঝে নিরীহরাই বলির শিকার হয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামবনিতে খুন হয়েছে ভুরি ভুরি, বিচার হয়নি একটিও। জামবনির এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরে রাজনৈতিক খুন হওয়া অনেকেই শহিদের মর্যাদা পেয়েছেন, সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে এলাকায় অনেকেই খুন হয়েছেন, তাঁরা সেই ভাবে মর্যাদা পাননি। বরং মাওবাদী সন্ত্রাসে জামবনিতে খুন হওয়ার সংখ্যা সব চেয়ে কম।

Political-Murder 3
গত ২৮ আগস্ট তৃণমূল নেতা চন্দন ষড়ঙ্গী (৫১)-র কোপানো মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের কথায়, খুন ও সন্ত্রাস কোনো ভাবেই কাম্য নয়। বাম সরকার যথা সময়ে পদক্ষেপ নিলে, এলাকায় এত মানু‌ষের প্রাণ যেত না। শান্তি অটুট রাখতে এই সরকারেরও সময় থাকতেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


আরও পড়ুন: ফের রাজনৈতিক খুন! অশান্তির কালো ছায়া ঝাড়গ্রামে, আটক সিপিএম সমর্থক


এ প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলার তৃণমূলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা বলেন, “সরকার ও প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর আছেই। তা ছাড়াও আমরা দলীয় ভাবে তৎপরতা বাড়াব, সমস্ত বোর্ড গঠন হয়ে যাওয়ার পর আমরা সেই কাজ শুরু করে দেব। যেখানেই মানুষ বিপদে পড়বে, সেখানেই ছুটে যাবে দল।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন