mukul roy
Samir mahat
সমীর মাহাত

মুকুল রায়ের “ম্যজিক”ই কি ঝাড়গ্রামে বিজেপির প্রসার ঘটাল! এই নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে গোটা জঙ্গল মহলে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রামের পটপরিবর্তন সেই আলোচনায় অতিরিক্ত ইন্ধন জোগাচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ঝাড়গ্রাম পাঁচমাথার মোড়ে মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে জনসভা, গোপীবল্লভপুরে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে সভা (অবশ্য ঝড়-বৃষ্টিতে এই সভা ফলপ্রসূ হয়নি), সন্তর্পণে লালগড়ের ছত্রধরের বাড়িতে সটান উপস্থিতি মুকুলের, পঞ্চায়েত প্রাক-পর্বে ঝাড়গ্রাম জেলায় এগুলিই ছিল মূলত বিজেপির প্রধান কর্মসুচি। তাতেই এত জয়লাভ! নাকি এর পিছনে অন্যকোনও বিশেষ নেতৃত্বর ভূমিকা বা কৌশল আছে?

প্রথমেই উল্লেখ করা ভালো এ ব্যাপারে একাধিক বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার প্রভাবশালী বেশ কিছু তৃণমূল নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে গোটা জঙ্গল মহলে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের নেপথ্যে রয়েছে দলের প্রতি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের চাপা ক্ষোভ। তাঁদের মতে, ২০০৮ সাল থেকে ঠিক যে ভাবে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ছাইচাপা ক্ষোভের উপশম পাওয়ার চেষ্টা করেছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আঁকড়ে ধরে। কতকটা একই ধরনের ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া ভুগতে হচ্ছে বা (আগামীতে) হবে বর্তমান শাসক দলকেও।

এই প্রতিক্রিয়াকে খুব সহজেই তালুবন্দি করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুকুল জঙ্গল মহলকে হাতের তালুর মতোই চেনেন। বিজেপিতে যোগদানের পর তিনি গোটা রাজ্য থেকে বেছে নিয়েছিলেন নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলকে। যার মধ্যে জঙ্গল মহল অন্যতম। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই তিনি ঝাড়গ্রামে এসেছেন। দলীয় কর্মী তো বটেই, সূত্রের খবর, বেশ কিছু বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা বলতে পারবেন তাঁর ভোট-কৌশল।

এমনকী ভোটের দিন বা ফলাফল ঘোষণার দিন যখন রাজ্যস্তরের বাম নেতারা বিক্ষোভ কর্মসুচিতে শামিল, সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, সেই সময় মুকুল রায়ের অবস্থান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে অজানাই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গল মহলে পরিবর্তনের পরিবর্তন (মুকুলের ডাক)  হয়তো জঙ্গল মহল থেকেই শুরু হল প্রাক্তন তৃণমূল নেতার হাত ধরে।

অবশ্য সমান্তরাল ভাবে উঠে এসেছে ভিন্ন একটি মত। কেউ কেউ বলছেন, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়ি গোপীবল্লভপুরের কুলিয়ানা গ্রামে। ঝাড়গ্রাম এলাকার বিরোধী শিবির একটা শীর্ষ নেতার আশ্রয় খুঁজছিলেন, তার ফল নির্বাচনে দেখা গিয়েছে। মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতর অঞ্চলেও পঞ্চায়েত পর্বে বিজেপি বড়ো মাপের সভা করেছে। দলীয় সভাগুলিতে ঝাড়গ্রামে সারাবছরই উপস্থিত থাকেন দিলীপবাবু। একমাত্র পঞ্চায়েত ভোটের দিন সম্ভবত তিনি গ্রামে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবুও ফল দলের কাছে আশাতীত। তাই জেলা নেতৃত্বর সঙ্গে মুকুলবাবুর অবদানের পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের বর্তমান সামাজিক-রাজনৈতিক কারণেরও একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে।

(ছবিতে ছত্রধর মাহাতোর বাড়িতে মুকুল রায়)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here