shovan chatterjee
শোভন চট্টোপাধ্যায়।
debarun roy
দেবারুণ রায়।

এমন নিরাশ্রয় নিরালম্ব হয়ে কতদিন থাকবেন শোভন? বাংলায় এখন শোভন বলতে এক জনই। আর কোনো পদ-পদবি-তকমার তোয়াক্কা নেই। এ যেন সেই বিবরমুক্ত মুক্ত বিহঙ্গ! কী শান্তি, পরম নির্বিকল্প তুরীয় মার্গে বিচরণ! যত জঞ্জালের পাহাড়, সলিড ওয়েস্ট, ধাপা, ধাঙড়, খোলা ম‍্যানহোল, বর্ষার বুকজল, ভাঙা পাম্পের ভটভটি, পামারবাজার, বুক ধড়ফড় যদি বা সামাল দেওয়া গেল ওমনি লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন! বাগড়ি বাজার জতুগৃহ! আহাহা হল কী, মিডিয়ার মতে এ-ও যে নন্দরাম! যা কিছু হলেই লাল জমানার নাম নিয়ে গালাগাল। এরও ওপরে আছে বাসন্তীতে বাঘের থাবা, পুঁটিয়ারিতে পুকুর ভরাট, বেহালার বিয়ে-বিভ্রাট কিংবা নাকতলার নেমন্তন্ন – সবই মহানাগরিক, ডবল মন্ত্রী, জেলার সাংগঠনিক নেতার কাজের মধ্যে পড়ে। পদ ভুলে সারা দিন ঝোলা কাঁধে নেত্রী-প্রদক্ষিণ। শত্রুও এমন অপবাদ দেবে না যে মেয়রের, থুড়ি প্রাক্তনের পদমোহ ছিল। পদ ছেড়ে সারা দিন পদচারণা করেছেন নেত্রীর পদাঙ্কে, আপদে বিপদে। আনন্দে উৎসবেও পদ পথে কাঁটা দিয়েছে?  আর সে জন্য যা দিয়েছি যা পেয়েছি তুলনা তার নাই। না হলে, কানন কেন বিকল্পহীন? দলে এমন নির্বিকল্প নির্জলা সোলজার কোথায়? যার সোল প্রপ্রাইটার পার্টি। মনে কোনো কাদা নেই, আনুগত্যে ধাঁধা নেই, সব পেয়েছির আসরে এর একটা বিকল্প কেউ দেখিয়ে দিক। এক ধাক্কায় জলে পড়ার ক‍্যারিশমা আর কার? যে জলে ফেলে সে-ও জানে জলশোভনের দোসর নেই স্থলে জলে অন্তরীক্ষে।তাই পুরস্কারে অস্কার, তিরস্কারে ছারখার এক জনই হতে পারে। অশোভন পাওয়ার পলিটিক্সের শোভন চ‍্যাপটার ক্লোজড। পাওয়ার যাঁরা চাওয়ার চেয়ে বেশিই পেলেন, তাঁরা হাড়ে হাড়ে দাঁড়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন?

এমন একটা পর্যায়ে যখন খোলস ছাড়ার সময় আসে তখন নবকলেবরের কথা ভাবতে হয় না। এই তো, প্রথম রাতে দাঁত খিঁচিয়ে শুধরে নিলেন দিলীপ ঘোষ। এই বাজারে পদত‍্যাগী মন্ত্রী-মেয়রকে গালমন্দ করতে পারে বিজেপি? বেশ চাপে আছে সংঘবীর! সংঘর্ষে স্থির থেকে শুধু সাংবাদিক বৈঠকে পাশাপাশি বসার স্বপ্ন দেখতে থাকুন। জোগাড়-যন্ত্র করার খেলা আপনার নয়। ওটা অন্য কারও ব্রিফ। শোনা যাচ্ছে ছোটিসি মুলাকাত একটা হয়ে গিয়েছে। বেশ শোভন ভাবেই। এক কালের আত্মীয়। খুব বেশি দিন ছাড়াছাড়ি হয়নি। তাই দাদা ভাই আর ঠাঁই ঠাঁই কেন? সম্পর্কে যখন মরচে পড়েনি তখন আবার কীসের দুঃখ কীসের দৈন‍্য কীসের লজ্জা কীসের ক্লেশ?

তিনি তো এ পাঠশালার নতুন মাস্টার নন। কাজেই ভুল শিক্ষে দেবেন না। মোটামুটি ঠিক হয়েছে, কোনো তাড়াহুড়ো নয়। ধীরে সুস্থে পা ফেলা। কারণ, প্রতিপক্ষ পরাক্রমশালী। যে কোনো খেলা ভেস্তে দিতে পারে এতটাই সর্বশক্তিমান। সুতরাং প্রতিপক্ষকে কখনোই তুচ্ছ করে দেখা চলবে না। সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে। অতএব তিনি শোভন পরামর্শ পেয়েছেন, দলের পদ ছাঁটাইয়ের জন্য অপেক্ষা করুন। নিজে থেকে বিবাগী হতে যাবেন না। দল ছাড়িয়ে দিক। আপনি ছাড়বেন কেন? কাউন্সিলর পদও তাই। সময়োচিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, দলের সুবিধে করে নিজে থেকে ছাড়া নয়। দল বললে ছাড়বেন। বিধায়কপদ নিয়ে দলও নিশ্চিত বুঝতে চাইবে অপর পক্ষের মতিগতি। এখনও তো দু’ বছরের মেয়াদ বাকি। দলত‍্যাগের সময় হলে তখন অবস্থা বুঝে ব‍্যবস্থা। তবে বাগী তো এখনও হননি শোভন চট্টোপাধ্যায়। এখনও অনুরাগী। তবে নিজের আখেরে নিরাপত্তা, নারদ, সারদা এবং রোজভ্যালি ইত্যাদি ইত্যাদির মতো চাঁদের কলঙ্ক ভেবে চলতে তো হবেই। দিনশেষে নিজ গেহে থাকার কথা ভেবেই তো যত পাশাখেলা আর ভালো বাসাবদল। নিজের ভালো কে না বোঝে। পদ ছাড়ার দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিন্তু মন্তব্য ছিল যথেষ্ট শোভন। কী করব তা দেখতেই পাবেন। দলের নিঃস্বার্থ সৈনিক, বা, পদ ছাড়লেও দল ছাড়ব না, এই ধরনের বাক্য খরচ করেননি। বেশ অনেকটাই স্ট্রেট ব‍্যাটে খেলেছেন। কিন্তু শোভনের জীবনে তো শুধু রাজনীতি নেই। আছে আরও অন্য কথা, ব‍্যথা। বাজারে যে ভাবে তুমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়, আমি যে বহ্নিশিখা ছড়িয়েছে তাতেও জল ঢালার কোনো লক্ষ্মণ দেখাননি। আবার গুঞ্জন, দিল্লির দরবারের। দরাদরি তো সব সময় কাঞ্চনমূল‍্যে হয় না, এটা শুধুই অর্থনীতি নয়, অনর্থনীতি। যার খোলস হল রাজনীতি। নিজের ভালো বুঝতে বুঝতে লোককে সমানে বোঝাতে হয়, বন্ধুগণ, এতে দশের আর দেশের কল‍্যাণ। সুতরাং অমৃতলগ্ন আসন্ন হলেও পাঁজি দেখে পাঁচ জনে ঠিক করবেন মাহেন্দ্রক্ষণ। অমৃতের ভাণ্ড যখন ভাণ্ডারীর হাতে তখন তাঁকে পেতে বেশ ক’ দিন তো লাগবেই। তিনি এখন উড়ন্ত চাকির মতো মধ‍্যপ্রদেশ চষে বেড়াচ্ছেন। হিন্দি হৃদয়ে হলচল। বাংলা নিয়ে ভাবার সময় নেই। প্রশ্ন উঠছে, এখনই দিল্লি কেন? মুকুল রায় তো বাংলারই নেতা। এবং এই গ্রহণ বর্জনের দায়িত্বে তো তিনিই। শাহ থেকে বিজয়বর্গীয় কেউই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাবেন না। বাংলার পদ্মবনে ঘাসফুলের ভ্রমর এলে এনরুট মালি। যিনি হলেন দিল্লির কুল মেসেঞ্জার মুকুল। রাজ‍্যসভায় না থেকেও রাজ‍্যে সমান্তরাল কর্তৃত্বে। বিজেপি পাওনা ছাড়া দেনা বোঝে না। ঠিক সময়ে ঠিক অঙ্কে থাকলেও নবান্নের নাটবল্টু চেনে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here