mukul roy

নয়াদিল্লি : পিঠোপিঠি তিনটি সাংবাদিক বৈঠক। প্রথমে মুকুল রায়, তারপর পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তার গায়ে গায়ে দিলীপ ঘোষ।

শেষ থেকে শুরু করা যাক। কারণ, বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রায় ঘোষণাই করে দিয়েছিল আজই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন মুকুল রায়। কিন্তু তিনি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিলেন,  কোন দলে যাবেন তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। আপাতত তিনি ছুটিতে যাচ্ছেন। একে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন,‘পর্বতের মূষিক প্রসব’।

সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপি সভাপতির গলায় মুকুল রায়ের তাদের দলে যোগদান নিয়ে দিশাহীনতার সুরই প্রকাশ পেয়েছে। ‘‘সকাল থেকে থেকে সবাই টানটান উত্তেজনা নিয়ে বসেছিল তারপর যা হল তা পাহাড়ের মূষিক প্রসবের মতো। কোনো কাজের কথা জানা যায়নি’’ বলেন দিলীপবাবু। বিজেপিতে যোগ দেবেন কিনা মুকুল রায় এ প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘বিজেপিতে আসব মুকুল নিজে না বললে তো আমাদের কিছু বলার নেই।’’  তবে মুকুলকে ‘পাকা রাজনীতিবিদ’ বলে মন্তব্য করে দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁর মতো কোনো নেতা দলে এলে সে দলের লাভই হবে।

গায়ে সবুজ জ্যাকেট পরে উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। ইস্তফা দেন তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও। তারপর সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, হৃদয়ে গভীর যন্ত্রণা নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে সেখানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করেন মুকুল।

তৃণমূল ছাড়ার মূল কারণ হিসাবে দলনেত্রী ‘একনায়কতন্ত্র’কেই দায়ী করেছেন তিনি। মুকুল রায় বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রী, কিন্তু আমরা চাকর নই। তৃণমূল এমন একটা দল, যেখানে একজনই সব। ছ’মাস আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম দল ছাড়ার। আমি তৃণমূলে থেকে যেতে পারতাম, কিন্তু অন্যদের মতো মুখ বন্ধ করে থাকতে পারব না।’’ সাংবাদিকদের প্রশ্নে সারদা-নারদা প্রসঙ্গে উঠলে তিনি বলেন, ‘‘নারদ-সারদার বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু জানতেন না।’’

আরও পড়ুন : কেন মুকুল রায়কে নিয়ে আপত্তি আরএসএস-এর 

তৃণমূল নেত্রীর ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলও তাঁর দল ছাড়ার পক্ষে যুক্তি হিসাবে তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, ‘‘কখনও বিজেপির সঙ্গে যাচ্ছে, কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে যাচ্ছে। কখনও তৃণমূল বলছে কংগ্রেসকে ছাড়া দেশ চলবে না, কখনও বলছে বিজেপিকে ছাড়া চলবে না।’’ সাংবাদিক বৈঠকে মুকুল রায় দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি ২০০৩ সালে আরএসএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

প্রকৃতপক্ষে, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার প্রক্রিয়ায় দলের বিরুদ্ধে নানা কথা বললেও কখনওই আক্রমণের সুর সেভাবে চড়াননি মুকুল। তার ওপর বুধবার দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, মুকুলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ বাড়িয়েছে। আরএসএস-এর কথা মুকুল বারকয়েক উল্লেখ করলেও, তা থেকে মুকুলের বিজেপি-তে যোগদানের সহজ সমীকরণ তৈরি করাটা যে বাড়াবাড়ি হবে, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে মুকুল রায়ের সাংবাদিক বৈঠকের ঠিক পর পর সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি মুকুল রায়ের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেন, মুকুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়নি আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ করার। তাঁর দাবি, সিবিআই যেদিন থেকে মুকুলকে জেরা করতে শুরু করল, তখন থেকেই তলে তলে দলকে না জানিয়েই বিজেপির নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করে দেন মুকুল।

সদ্য ইস্তফা দেওয়া রাজ্যসভার সাংসদ এদিন দাবি করেন, জেটলি, বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে তাঁর খুব ভাল সম্পর্ক। এই মন্তব্যকেও আক্রমণ করেছেন পার্থ। তিনি বলেন, সিবিআই থেকে বাঁচার জন্য, হতাশা থেকেই বাঁচতেই মন্তব্য। উনি টিউবলাইট, সিবিআইয়ের গুঁতো খাওয়ার পরে বুঝেছেন বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল নয়।

তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে মুকুল রায়ের ‘একনায়কতন্ত্র’-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যয় বলেন, ‘‘আমাদের রোল মডেল মমতা। রোল মডেল করতে হলে একজনকে সামনে রাখতে হয়। আমরা দলের কোনো চাকর নেই, সহকর্মী।’’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here