রাজ্যপালের ‘নারদ খেল’, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রাথমিক পদক্ষেপ?

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ, দুই মন্ত্রী-সহ চার নেতাকে সিবিআই-এর গ্রেফতার এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে একাংশের মনে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি এ ভাবেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে?

রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত নতুন কোনো বিষয় নয়। বিধানসভা ভোটের আগেই প্রকাশ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর। কিন্তু ভোটের ফলাফল তৃণমূলকে তৃতীয় বারের জন্য নবান্নে ফিরিয়েছে। থেমে থাকেননি রাজ্যপাল। রাজ্যের কোথাও কোথাও ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে সামনে রেখে করে তিনি সফর করেছেন। তা নিয়েও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ‘পত্রযুদ্ধ’ চরমে পৌঁছোয়। রাজ্যপাল অবশ্য ক্ষান্ত না হয়ে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে।

Loading videos...

রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আবেদন সুপ্রিম কোর্টে

শীতলকুচি সফর-ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে রাজ্যপাল স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, “সংবিধানের ১৫৯ অনুচ্ছেদের অধীনে আদেশ রয়েছে যে আমি সংবিধান ও আইন রক্ষার, রাজ্যবাসীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং তাঁদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব”।

ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল বিজেপিও। বিধানসভা ভোটের পরে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে শপথ নেয়নি তখনও। তার আগেই রাজ্য জুড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার যুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ও সিবিআই তদন্তের জোড়া আর্জি জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্যে পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।

সিবিআইকে ছাড়পত্র রাজ্যপালের

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র এবং রাজনৈতিক নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে বিনা নোটিশে তুলে এনে গ্রেফতার করে সিবিআই। নারদা মামলায় অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিবিআই-কে ছাড়পত্র দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর।

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের ঠিক আগের রাতে, নারদা ভিডিও টেপ কেলেঙ্কারি কাণ্ডে অভিযুক্ত, তৃণমূল সরকারের চার প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য সিবিআইকে সম্মতি দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যপালের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই সোমবার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছে সিবিআই। যার জেরে রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। শিকেয় উঠেছে করোনা লকডাউন। নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরের সামনে ধরনা দিচ্ছেন তাঁরা। এ ব্যাপারেও কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল টুইটারে লেখেন, “রাজ্যের এই পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন, মুখ্যমন্ত্রীকে আমি বলব, দয়া করে সংবিধান এবং আইন মেনে চলুন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুরোধ করব পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরকে। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয় যে, পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে দেখেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি”।

রাজ্য সরকারকে ‘বিপাকে’ ফেলার কৌশল?

সংবিধান এবং আইনরক্ষায় এ ভাবেই রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কথা বড়ো করে তুলে ধরতে উদ্যত রাজ্যপাল। এ দিনেও তিনি অভিযোগ করেছেন, “কী ভাবে এই সব ঘটনা ঘটতে দেখেও রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশ স্রেফ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমার অনুরোধ, রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা করুন”।

ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছিল গত ২ মে। তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নেন ৫ মে। রাজনীতির কারবারিদের মতে, তার পর থেকে এই অতিস্বল্প মেয়াদের একটি সময়কালেই সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক ভাবে রাজ্য সরকারকে যে ভাবে ‘বিপাকে’ ফেলার কৌশল নেওয়া হচ্ছে তা এক কথায় নজিরবিহীন। সব মিলিয়ে একাংশের মনে প্রশ্ন, তা হলে কি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির ভিত মজবুত করার চেষ্টা চলছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বিশিষ্ট আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ বলেন, “তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। রাজ্যপাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতা থেকেই করা হয়েছে। কিন্তু এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে গেলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আটকে যাবে। ক’ দিন আগে ২১৪টা আসনে জিতে সরকার তৈরি করেছে একটা দল। এত তাড়াতাড়ি জনমতকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা ভাবাই যায় না।”

আরও পড়তে পারেন: ফিরহাদ, মদন, সুব্রত, শোভনকে গ্রেফতারের এটা সঠিক সময় নয়, বললেন অধীর চৌধুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.