পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দি কয়েদিদের স্বনির্ভর করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য কারা দফতর। নতুন এই প্রকল্পের ফলে শুধু যে কয়েদিরা স্বনির্ভর হচ্ছেন তা-ই নয়, পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

সংশোধনাগারে কয়েদিদের খাওয়াদাওয়ার পেছনে রাজ্য সরকারের বছরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে সরষের তেলে খরচ হয় দশ কোটি মতো, পাঁউরুটিতে হয় কুড়ি কোটি আর শাক-সবজিতে হয় ছয় কোটি। বিপুল এই খরচ কমাতেই রাজ্য সরকারের এই নয়া উদ্যোগ। এই প্রকল্পে কয়েদিরা নিজের হাতে বিভিন্ন জিনিস উৎপাদন করছেন। জেল কর্তৃপক্ষই কয়েদিদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কয়েদিদের এই উৎপাদন করা জিনিস, জেল কর্তৃপক্ষ বাইরের বাজারে বিক্রি করছে। এর ফলে রাজ্য সরকারের আয় বাড়ছে। কারা বিভাগের আইজি অরুণ গুপ্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কয়েদিরা যে জিনিস তৈরি করছেন তার ফলে কয়েদিদের পিছনে জেল কর্তৃপক্ষের খরচ অনেক কমেছে।

২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে কয়েদিদের উৎপাদিত জিনিস থেকে রাজ্য সরকারের আয় হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ২৮ শতাংশ মুনাফা পেয়েছে কারা দফতর। আগের অর্থ বর্ষের থেকে এই অর্থ বর্ষে কারা দফতরের রাজস্ব কয়েক গুন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কারা দফতরের এক আধিকারিক। প্রেসিডেন্সি, দমদম, আলিপুর, বহরমপুর, মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে এই মুনাফা পেয়েছে কারা দফতর। এই প্রকল্পে কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৭৮ জনের।

এই সমস্ত জেলে কয়েদিরা নিজের হাতেই তৈরি করছেন তেল, বেকারির খাদ্যবস্তু, মোমবাতি, সুতির পোশাক, তাঁতবস্ত্র, ফিনাইল, ছাতা ইত্যাদি। এর পাশাপাশি সরকার উদ্যোগী হচ্ছে শাক-সবজি উৎপাদনে। যার ফলে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, রাসায়নিক সার কয়েদিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, জলাশয়গুলিতে মাছ চাষ করার জন্য। এই জন্য ইতিমধ্যেই ২১টি জেলা সংশোধনাগারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। লালগোলায় উন্মুক্ত কারাগারের ৭ একর দিঘিতে মাছ চাষ শুরু করেছে কারা দফতর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here