নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি :  শিশু বিক্রিতে সাহায্য, দু’ লক্ষ টাকা ‘কমিশন’ দার্জিলিং জেলার সাসপেন্ডেড শিশু সুরক্ষা আধিকারিক মৃণাল ঘোষের। শুক্রবার আদালতের কাছে জমা দেওয়া সিআইডির কেস ডায়েরিতে রয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ ছাড়া ‘কাজে’ সাহায্য করার জন্য মৃণালের স্ত্রী জলপাইগুড়ির বরখাস্ত শিশু সুরক্ষা আধিকারিক শাস্মিতা ঘোষকে ‘উপহার’ দেওয়া হয়েছিল দামি ল্যাপটপ। শুক্রবার আদালতে শিশুপাচার কাণ্ডে অভিযুক্তদের আইনজীবী এবং সরকার পক্ষের আইনজীবীর মধ্যে সওয়াল-জবাবের সময় উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি আদালতে নিয়ে আসা হয় শিশুপাচার কাণ্ডে জড়িত চন্দনা চক্রবর্তী, জুহি চৌধুরী, শাস্মিতা ঘোষ, সোনালি মণ্ডল, মৃণাল ঘোষ, দেবাশিস চক্রবর্তী এবং মানস ভৌমিককে। বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়।

জুহি চৌধুরীকে তিনি কোনো সময় কোনো টাকা দেননি, বিচারকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় এই মন্তব্য করেন শিশুপাচার কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, এই বছরই তাঁর সঙ্গে জুহির পরিচয় হয়। কয়েক দিন আগে জুহি চৌধুরীর মা মিঠু চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, চন্দনাই তাঁর মেয়েকে ফাঁসিয়েছে। যদিও এ দিন চন্দনা বলেন, তিনি কাউকে ফাঁসাননি। তাঁর আরও দাবি, যে ১৭টি শিশুর কথা বলা হচ্ছে তারা আদৌ বিক্রি হয়নি এবং তারা কোথায় আছে তা প্রশাসন জানে। তিনি নির্দোষ। 

আদালতে তোলার পর ৭ জন অভিযুক্তর হয়ে ১২ জন আইনজীবী সওয়াল-জবাব করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা সওয়াল-জবাব চলে। জুহি চৌধুরীর আইনজীবী অখিল বিশ্বাস ঘটনার সিবিআই তদন্তের আর্জি জানান, যদিও সরকারি আইনজীবী প্রদীপ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, সেই দাবি আদালতে গ্রাহ্য হয়নি। অভিযুক্তদের জামিনেরও আবেদন করেন আইনজীবীরা, যদিও তার তীব্র বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী প্রদীপ চ্যাটার্জি।

দু’ পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ৭ অভিযুক্তের  ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। আগামী ৩১ মার্চ ফের তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে। 

সূত্রের খবর, এ দিন চন্দনা চক্রবর্তী এবং চিকিৎসক দেবাশিস চন্দের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বিচারকের সামনে। চন্দনার হোম থেকে অবৈধ দত্তক সংক্রান্ত বহু নথিপত্র উদ্ধার করেছে সিআইডি। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই সব নথিপত্রে হস্তাক্ষর মিলিয়ে দেখা হবে চন্দনা এবং দেবাশিসের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন