dhartimohan roy in his office

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায় কি অপসারিত? নাকি তার অপসারণের খবর শুধুই গুজব? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন রাজ্যের শিক্ষাবিদ মহলে।

পুজোর ছুটির মধ্যে বিদ্যালয়ে আসতে হবে শিক্ষকশিক্ষিকাদের, এই রকম একটি সার্কুলার ঘিরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল শিক্ষকমহলে। সেই নির্দেশিকার জেরে সংসদের চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায়কে রাতারাতি অপসারণ করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও আজ, বৃহস্পতিবার নিজের দফতরে বসে বহাল তবিয়তে কাজ করতে দেখা গেল ধর্তিমোহন রায়কে। ফলে তাঁ

র অপসারণের খবর নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হল সব মহলেই।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ওই দিন একটি সার্কুলার জারি করেন জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায়। সেই সার্কুলারে বলা হয়, জেলার সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য রেজিস্ট্রেশনের কাজ বিদ্যালয়ে এসে করতে হবে, ১৯ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার ছুটি ছিল এবং ২৫ তারিখ থেকে বিদ্যালয়গুলিতে পুজোর ছুটি শুরু হয়ে যাবে। স্বাভাবিক এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষকমহলে। পুজোর ছুটিতে বিদ্যালয়ে আসার নির্দেশ অগণতান্ত্রিক বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

dist primary school council, jalpaiguri
জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সংসদ।

নালিশ যায় রাজ্য শিক্ষা দফতর এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। এর মধ্যেই শিক্ষকদের ক্ষোভের আঁচ পেয়ে ওই দিন রাতেই আগের সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে নতুন সার্কুলার জারি করা হয়। সেখানে শুধুমাত্র ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পূজার দিন বিদ্যালয়ে স্কলারশিপ রেজিস্ট্রেশনের কাজ করার কথা বলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। শনিবার রাতে খবর আসে, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে চেয়ারম্যানের পদ থেকে ধর্তিমোহন রায়কে অপসারণ করা হয়েছে। এই খবরে আলোড়ন পড়ে যায় শিক্ষকমহলে। সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেও অপসারণের সিদ্ধান্ত অনেকে মেনে নিতে পারেননি। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল শিক্ষক সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি সরাসরি এর বিরোধিতা করে। সংগঠনের সভাপতি নির্মল সরকার জানিয়েছেন, ধর্তিমোহন রায়কে পদে বহাল রাখার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। ধর্তিমোহন রায়কে পদে রাখার দাবি জানায় রাজবংশী ক্ষত্রিয় সমিতিও।

ধর্তিমোহন রায় দাবি করেন, জেলাশাসক রচনা ভগত এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনুরোধেই তিনি ওই সার্কুলার জারি করেছিলেন। কারণ রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এই নির্দেশের জেরে পদ থেকে অপসারণের খবর তিনি মেনে নিতে পারেননি। এর সত্যতা জানতে রবিবার কলকাতায় যান। সোমবার দেখা করেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। সূত্রের খবর, সুব্রত বকশি সহ দলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। বুধবার জলপাইগুড়ি ফেরেন ধর্তিমোহনবাবু।

বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎই সংসদের দফতরে আসেন তিনি। তাঁকে দেখে একটু হকচকিয়ে যান দফতরের কর্মীরা। যদিও নিজের চেম্বারে বসে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর কাজকর্ম সারেন তিনি। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, পদ থেকে অপসারণের কোনো সরকারি নির্দেশিকা তিনি এখনও পাননি। তাই দফতরে এসেছেন।

protest against the removal of dhartimohan roy
ধর্তিমোহনকে অপসারণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।

সূত্রের খবর, তাঁকে পদ থেকে অপসারণের খবরে শিক্ষকমহলের একাংশ সহ বিভিন্ন মহলে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা দেখে অপসারণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও অন্য একটি সূত্র বলছে, পুজোর পরেই অপসারণের চিঠি ধরানো হবে ধর্তিমোহন রায়কে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিল্পব ঝাঁর বক্তব্য, ধর্তিমোহন রায়ের অপসারণের বিষয়টি পরিষ্কার করুক শিক্ষা দফতর।

এ দিকে এই ধোঁয়াশার মধ্যেই আবার অন্য জলঘোলা শুরু হয়েছে। অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই, সেই পদে কাকে বসানো হবে তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। দুই স্কুলের দুই প্রধানশিক্ষক সহ বেশ কয়েক জন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ শিক্ষাবিদের নাম উঠে আসছে এই তালিকায়।

এখন এই ঘোলা জল কবে পরিষ্কার হয় সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষানুরাগী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন