hunger strike

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: শীতের কুয়াশা ভেজা রাত। রাস্তার পাশে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে আমরণ অনশনে বসে রয়েছেন সরকারি হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক। এই ঘটনা সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

জলপাইগুড়ি শহরের ঘটনা। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক কুমার অতনু। সোমবার রাত ন’টা নাগাদ তিনি শহরের শিল্পসমিতি পাড়ায় আমরণ অনশনে বসেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলে দলে মানুষ ভিড় জমান সেখানে। সুচিকিৎসক হিসেবে তিনি শহরবাসীর কাছে পরিচিত। এইরকম একজন চিকিৎসকের এহেন সিদ্ধান্ত কেন- তা নিয়ে কৌতূহলী সকলেই।

যদিও চিকিৎসক জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি একরাশ ক্ষোভ-অভিমান নিয়ে তিনি অনশনে বসেছেন।

এর আগে ১৯ নভেম্বর ওই চিকিৎসক বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এক ওষুধ ব্যবসায়ী বন্ধুর বিরুদ্ধে দশ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছিলেন চিকিৎসকের স্ত্রী। ধার নেওয়া টাকা ফেরত দেননি ওই বন্ধু। উলটে চিকিৎসককে মারধর, অপমান করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তার জেরেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কুমার অতনু, এই মর্মেই থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন চিকিৎসকের স্ত্রী রাজিতা দত্ত রায়। যদিও সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে ওই বন্ধু পরে আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়ে যান।

ঘটনাচক্রে ওই বন্ধুর ওষুধের দোকানের উল্টোদিকেই অনশনে বসেছেন তিনি। ঘটনার পর সেখানে ভিড় জমতেই সেই ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। অতনু জানিয়েছেন, সেই বন্ধু তাকে হেনস্থা করে এখন তাঁর নামে থানায় মিথ্যা মামলা করছে। তবে শুধু সেই কারণে নয়, স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিও ক্ষোভ রয়েছে, জানিয়েছেন তিনি।

গত ১১ এপ্রিল জলপাইগুড়ির মেরিনা নার্সিংহোমে এক রোগিণীর মৃত্যু ঘটে। সেই ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৭ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ নম্বর (অনিচ্ছাকৃত খুন) ধারায় মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। সেই মামলা এখনও কলকাতা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। এই মামালায় চিকিৎসক হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত কুমার অতনু।

অতনুর আমরণ অনশনের চিঠি

আজ অনশনে বসে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁকে একাধারে খুনি এবং চোর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্ যদফতরও তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। আরও অভিযোগ, শুধু তাঁর উপর নয়, রাজ্যের সর্বত্রই চিকিৎসকদের উপর আক্রমণ হচ্ছে, তাঁদের নানারকমভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। অথচ সরকার বা স্বাস্থ্য দফতর চুপ করে আছে। চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তাই তিনি সকল চিকিৎসকের হয়ে সুবিচার চাইতে এই অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনশনে বসার আগে তিনি কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অনশনে বসার চিঠি দিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের কাছেও সেই বার্তা পাঠান।

তাঁর অনশন শুরুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ছুটে আসেন তাঁর ভাই ও আইনজীবী কুমার শান্তনু, সহকর্মী চিকিৎসক কমলেশ বিশ্বাস এবং শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁরা অনশন প্রত্যাহারের কথা বললেও চিকিৎসক তাতে রাজি হননি। কুমার অতনুর সহকর্মী এবং জেলা হাসপাতালেরই চিকিৎসক কমলেশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, কুমার অতনু যে অভিযোগগুলি তুলেছেন তার সঙ্গে তিনিও সহমত। রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেই চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, চিকিৎসকরা কোনো সময় ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীমৃত্যু ঘটান না। সেক্ষেত্রে তাঁদের উপর আক্রমণ বা ৩০৪ নম্বর ধারার মতো অপরাধের ধারা প্রয়োগ করা অনুচিত। এই ব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here