নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: আইনের গেরোয় আটকে মায়ের আদর। প্রায় নয় মাস আগে চুরি যাওয়া শিশুকন্যা উদ্ধার হলেও, এখনও তাকে ফিরে পাননি মা। নিয়মের বেড়াজালে নিজেদের অসহায়তার কথা স্বীকার করে নিয়েছে জলপাইগুড়ির শিশু কল্যাণ সমিতি।

ময়নাগুড়ি ব্লকের বাকালি এলাকার বাসিন্দা মুনমুন দাস। স্বামী মিঠুন দাস পেশায় মাছ ব্যাবসায়ী। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সদ্যোজাত তৃতীয় শিশুকন্যাকে নিয়ে ময়নাগুড়ি হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে উমা রায় নামে এক মহিলার সাথে পরিচয় হয় তাদের। সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে নবজাতককে নিয়ে চম্পট দেয় ওই মহিলা।

jlp-mother-2

৯ ফেব্রুয়ারি ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ উমা রায়কে গ্রেফতার করে। উদ্ধার হয় শিশুকন্যা। প্রথমে উদ্ধার হওয়া ওই শিশুকে নিজের বলে চিনতে পারেননি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়া মুনমুন দেবী। নিয়ম অনু্যায়ী শিশু কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে ওই শিশুটি চলে যায় হোমে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে মেয়েকে ফিরে পেতে সমিতির দ্বারস্থ হয় মুনমুন দেবী। তারপর ৯ মাস কেটে গেলেও মৌখিক আশ্বাস ছাড়া এখনো পর্যন্ত কোনো সাহায্য পাননি তিনি। এই নিয়ে ক্ষোভ জমছিল ওই পরিবার সহ গোটা গ্রামের বাসিন্দাদের। প্রতিবেশী সুনীতি দাস এর কথায়, “এতদিন আলাদা রাখার পর ওই শিশু তো নিজের মাকে চিনতেই পারবে না।”

  মঙ্গলবার বাকালির বাসিন্দারা ওই দম্পতিকে নিয়ে জলপাইগুড়ির শিশু কল্যাণ সমিতির দফতরে আসেন।  দম্পতির কাছে তাদের সন্তান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা। সমিতির সদস্যরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পুর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই। এতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বচসায় জড়িয়ে পড়েন সমিতির সদস্যদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত আগামীকাল মা-বাবা তাদের মেয়েকে দেখতে পারবেন, এমন আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে আসে। সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায় জানিয়েছেন, শিশুটির ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাকে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here