রোগী আত্মীয়দের জন্য খুচরো নিয়ে হাসপাতালে গেল ডাকবিভাগ

0

ব্যাঙ্ক যা পারেনি তা করে দেখিয়ে দিল জলপাইগুড়ি ডাকবিভাগ। চা বাগানের পর এ বার হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ‘ত্রাতা’র ভুমিকায় তারা। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও আত্মীয়দের বাতিল ৫০০, ১০০০ টাকার নোট পালটে খুচরো টাকা দিলেন ডাকবিভাগের কর্মীরা।

নোট বাতিল ঘোষণার পর থেকেই চরম অসুবিধের সম্মুখীন হচ্ছেন ভর্তি-থাকা রোগীদের আত্মীয় পরিজনেরা। ওষুধ থেকে পথ্য, সব কিছু কিনতেই খুচরো টাকার দরকার। সরকারি নির্দেশ থাকলেও অনেক ওষুধের দোকান খুচরো না থাকার অজুহাত দেখিয়ে পুরোনো ৫০০, ১০০০ টাকার নোট নিতে চাইছে না বলে কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছে।

এ দিকে অসুস্থ মা, বাবা, বা স্ত্রীকে ফেলে ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকার জন্য লাইন দিতেও পারছিলেন না পরিবারের লোকজন। ফলে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল তাঁদের। ময়নাগুড়ির মুজিবর আলির ভাই সামসাদ আলি ৪ দিন ধরে ভর্তি রয়েছেন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে। তিনি জানিয়েছেন, টাকার অভাবে ফল, ওষুধ ঠিকমতো কিনতে পারছিলেন না। টাকার এতটাই আকাল যে পরিচিতদের কাছে ধার চেয়েও পাননি। সাধারণ মানুষের এই সমস্যার কথা কানে আসতেই উদ্যোগী হন জলপাইগুড়ি ডাকবিভাগের সুপারিন্টেনডেন্ট মিস নিতু। বৃহস্পতিবার ‘মোবাইল ক্যাশ এক্সচেঞ্জ কাউন্টার’ নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন ডাকবিভাগের কর্মীরা। ভর্তি থাকা ৭০০ রোগীর পরিবারের হাতে পুরোনো টাকা পালটে খুচরো ১০০০ টাকা তুলে দেন। হাতে টাকা পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তাঁরা।

মৌলানির শেফালী দাস জানিয়েছেন, তাঁর বাবা দুদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু টাকার অভাবে কিছু টেস্ট করাতে পারছিলেন না। আজ হাতে ১০০০ টাকা পাওয়ায় কিছুটা হলেও সেই সমস্যা মিটবে। হাসপাতালের সুপার গয়ারাম নস্কর ডাকবিভাগের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে আরও কয়েক দিন এই পরিষেবার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ডাক-বিভাগের আধিকারিকের কাছে। সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট মিস নিতু জানিয়েছেন, শুধু জেলা হাসপাতাল নয়, প্রয়োজনে ডুয়ার্সের হাসপাতালগুলিতেও এই পরিষেবা দেওয়া হবে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন