jalpaiguri forensic laboratory
জলপাইগুড়ি ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি ভবন। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: এত দিন ওপরে টিন এবং ইটের পাকা দেওয়াল দেওয়া ঘরে ফরেন্সিক পরীক্ষা হত। তার বদলে নতুন বিল্ডিং তৈরি হল। তার দোতলা এখনও অসম্পূর্ণ। বুধবার টিয়াবন থেকে নতুন করে জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যায়, এত দিন পর্যন্ত মাত্র এক ধরনের ফরেন্সিক পরীক্ষা হত। এখন তার বদলে বিভিন্ন রকমের ফরেন্সিক পরীক্ষা হবে। কিন্তু পরিকাঠামো ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

১৯৯০ সালে জলপাইগুড়িতে রিজিওনাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির উদ্বোধন হয়েছিল। ওপরে টিন দেওয়া পাকা দেওয়ালের মধ্যে চারটি ছোটো ছোটো ঘরের মধ্যে কাজ চলত। নব্বই-এর দশকে একজন সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার এবং একজন সিনিয়র সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করা হয়। এর পর ২০১৬ সালে আরও একজন সায়েন্টিফিক অফিসার নিয়োগ করা হয়। এ বার নতুন বিল্ডিং তৈরি হল, যদিও তা অর্ধসমাপ্ত। আপাতত মুখ্যমন্ত্রী যে বিল্ডিং-এর উদ্বোধন করলেন তা সম্পূর্ণ হয়নি। তার দোতলা এখনও বাকি।

ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য যা জরুরি তা হল ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ। কারণ কোনো পরীক্ষার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ভুল তথ্য জোগাবে। তা ছাড়াও মৃতদেহ থেকে নেওয়া রক্ত, মাংস এবং অন্যান্য সামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের দরকার। যার জন্য একটা জেনারেটর রাখা অবশ্যই দরকার। সেই জেনারেটর নেই। জলপাইগুড়িতে এখনও ঝড়বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন অনেকক্ষণ ধরে লোডশেডিং চলে। এখন কর্মীর সংখ্যাও অপ্রতুল। কারিগরি এবং সাধারণ পদ মিলিয়ে মোট ২৭টি অনুমোদিত পদ আছে। এখানে এখন কর্মীর সংখ্যা দশ জন।

এত দিন পর্যন্ত এখানে কেবলমাত্র বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা হত। যেমন রক্তের নমুনা, বীর্য এবং ধর্ষিতার দেহের যোনির মধ্যে লেগে থাকা রস, এগুলোর পরীক্ষা হত। এখন এখানে টক্সিকোলজি পরীক্ষা হবে। ভিসেরা পরীক্ষা হবে। বিষক্রিয়ায় মৃত ব্যক্তির পাকস্থলী থেকে বার করা বিষের নমুনা পরীক্ষা হবে। তার মধ্যে কোনো কীটনাশক বা অ্যালকোহল আছে কিনা তা-ও পরীক্ষা করা হবে। রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হবে যে তার মধ্যে বিষাক্ত পদার্থ, ঘুমের ওষুধ বা অ্যালকোহল আছে কিনা। এই পরীক্ষাগুলো এত দিন কলকাতায় ফরেন্সিক দফতরের মূল অফিসে এই পরীক্ষা হত।

এ ছাড়াও এখানে সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে। রক্ত এবং বীর্যের গ্রুপ নির্ধারণ করে তা একই ব্যক্তির কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। এই পরীক্ষা এখন কেবলমাত্র কলকাতার কিড স্ট্রিটে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারের ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে হয়ে থাকে। জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা শুরু করা হবে।

জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির অধিকর্তা নতুন ঘটক বলেন, “ভিসেরা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি কিছু দিনের মধ্যে এসে যাবে। সেরোলজিক্যাল পরীক্ষার যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে সব ক’টি বিভাগ পুরোদমে চালু হয়ে যাবে।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here