jalpaiguri district hospital

জলপাইগুড়ি:-একদিকে চিকিৎসক নেই।তার জেরে ব্যাহত চিকিৎসা পরিষেবা।অন্যpatientদিকে বিভাগ স্থানান্তরে জট।ক্ষুব্ধ রোগী, সাধারণ মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সমস্যায় জেরবার জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল।

বৃহস্পতিবার হঠাৎ দেখা যায়, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগের ইএনটি (নাক-কান-গলা) বিভাগটি বন্ধ।বন্ধ দরজায় সাদাকাগজের নোটিশে জানানো হয়েছে ২১-৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিভাগ বন্ধ থাকবে।দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে এসে এই নোটিশ দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কাঁদোবাড়ি গ্রাম থেকে সুপ্রিয় বিশ্বাস তাঁর ছেলের কানের সমস্যা নিয়ে দেখাতে এসেছিলেন।চিকিৎসা বন্ধ দেখে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর প্রশ্ন, তিনজন চিকিৎসককে এক সঙ্গে ছুটি দেওয়ার আগে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হল না কেন? এইভাবে হঠাৎ করে নোটিশ টাঙিয়ে একটি অতি-প্রয়োজনীয় বিভাগ ১১দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে রোগীদের মধ্যে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকার জানিয়েছেন, তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে দু’জন অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়েছেন।একজন চিকিৎসক আত্মীয় মারা যাওয়ায় ছুটি নিয়েছেন।
এদিকে গত তিনদিন ধরে বন্ধ জেলা হাসপাতালের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বিভাগ।কারণ ওই একই।একমাত্র চিকিৎসক ছুটিতে।মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি,যারা এই হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করাতে আসছেন তাদের হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনায় বাইরে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসক কাজে যোগ দিলেই ফের বিভাগটি চালু হয়ে যাবে।সূত্রের খবর, শহরের একটি বেসরকারি নার্সিহোমে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করানো হচ্ছে রোগীদের।তার বিল দিচ্ছে হাসপাতাল।সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অবশ্য আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বিভাগটি খোলা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার ব্যাবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ রাখেন।গত নভেম্বর মাসে সংস্কারের কাজ করার জন্য জেলা হাসপাতালের মেডিসিন ও সার্জিকাল বিভাগ দু’টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।এই দু’টি বিভাগেই প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হন।
jalpaiguri district hospital
তাঁদের পরিবার পরিজনেরা আসেন।তাঁদের জন্যই হাসপাতাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা দুটো পয়সার মুখ দেখতে পান।এলাকায় ওষুধ, ল্যাবরেটরি, হোটেল, ছোটখাটো দোকান মিলিয়ে প্রায় ২৫০জন ব্যবসায়ী রয়েছেন।এই দু’টি বিভাগ স্থানান্তরিত হওয়ায় তাদের ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।রবীন্দ্রনাথ দাস নামে এক ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুলেছেন,এর আগেও সংস্কারের কাজ হয়েছে হাসপাতালে,তার জন্য এবার দু’-দু’টি বিভাগ প্রায় পাচ কিলোমিটার দূরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার হল কেন?
কাজল কুণ্ডু নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, হটকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের পেটে লাথি পড়েছে।আজ তারা ২৪ঘন্টা দোকান বন্ধ রেখে এর প্রতিবাদ জানান।জেলা স্বাস্থ্য দফতরে স্মারকলিপিও দেন।তাদের দাবি, স্থানান্তরিত বিভাগগুলি দ্রুত জেলা হাসপাতালে ফিরিয়ে আনতে হবে।
যদিও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।তবে সূত্রের খবর জেলা হাসপাতালের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিভাগগুলি ফের ফিরিয়ে আনা হবে।তবে তা কবে তার কোনো সঠিক উত্তর জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল স্থানান্তরিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আয়ারাও।কারণ স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে তাঁদের ঢোকা নিষিদ্ধ।প্রায় দু’মাস ধরেই তাঁরা কাজের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।বিভিন্ন জায়গায় দরবার করছেন।আজও তাঁরা স্বাস্থ্য দফতরে বিক্ষোভ দেখান।অনিশ্চিত তাঁদের ভব্যিষৎও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here