নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বর্ষবরণের মাঝে নিজের প্রিয় জেলাকে কি ভুলতে বসেছে জলপাইগুড়িবাসী?  ১৪৯তম বছরে পা দিয়ে এই কি প্রাপ্য ছিল এই সবুজ-শহরের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিদগ্ধ মহলে।

ঐতিহাসিক ও প্রবন্ধিক উমেশ শর্মার বক্তব্যে উঠে এল, কী ভাবে ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্য হারিয়েছে উত্তরবঙ্গের এই বনেদি শহর। ১৮৬৯সালের ১ জানুয়ারি ব্রিটিশ শাসকের হাত ধরে জলপাইগুড়ি জেলার জন্ম। তার আগে অধুনা বাংলাদেশের রংপুর জেলার একটি মহকুমা শহর হিসেবে পরিচিতি ছিল জলপাইগুড়ি। কিন্তু ১৮৬৮ সালে ইন্দো-ভুটান যুদ্ধের পর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য জলপাইগুড়িকে একটি স্বতন্ত্র জেলার মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

dooars

আজ প্রায় দেড়শ বছরের দোরগোড়ায় দাড়িয়ে মালুম হয় পুরানো গৌরব এখন অপহৃত এই প্রাচীন জেলার। একদিকে বঞ্চনা আর অন্যদিকে অঙ্গছেদ কোনঠাসা করে রেখেছে ৬টি জেলার বিভাগীয় শহর জলপাইগুড়িকে। আগে বৃটিশ আধিপত্যের পাশাপাশি বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির শাসনও চলত এখানে। সেই ঐতিহ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্লান। নিজের জেলা, নিজের শহরকে মনে রাখেনি মানুষও। আলিপুরদুয়ারকে কেটে নিয়ে আলাদা জেলা করা হয়েছে।

mondir

খুব সচেতন মানুষ ছাড়া এই প্রজন্মের অনেকে জানেই না যে আজ তাদের প্রিয় জেলার জন্মদিন। বর্ষবরণের হুল্লোড়ে মাতলেও জেলার জন্মদিন পালন করার কোনো উদ্যোগ দেখা গেল না জেলাবাসীর মধ্যে। শহর সংলগ্ন তিস্তাপারে চড়ুইভাতিতে মেতে থাকা স্কুল শিক্ষক শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে কিছুটা লজ্জা পেয়েই সেকথা স্বীকার করে নিলেন।  উদ্যোগ নেই প্রশাসনের তরফেও।

teesta

তবে জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয়চন্দ্র বর্মণ জানিয়েছেন, এবছর না হলেও ১৫০ বছর উপলক্ষে ‘জলপাইগুড়ি উৎসব’ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে এতদিনের বঞ্চনার আক্ষেপ আর উন্নয়নের অগ্রগতি দুই জায়গা পাবে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি পৌরসভার পৌরপ্রধান মোহন বসু।

আপাতত এইটুকুই সান্তনা, আজ ব্রাত্য হলেও হয়ত আগামী দিনে হৃত গৌরব ফিরে পাবে সবুজ-শহর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here