indrani
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল। রবিবার রাত থেকে রেকর্ড বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বাঁকুড়া। অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়েছে ঝাড়গ্রামও। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাঁকুড়া শহরে বৃষ্টি হয়েছ ৩৫৩.৭ মিমি। এই বৃষ্টির ফলে  প্লাবিত হয়েছে বাঁকুড়ার সতীঘাট, দোলতলা এলাকা। জলমগ্ন বাঁকুড়ার রবীন্দ্র সরণি এলাকা। নিচু এলাকায় অবস্থিত বাড়িগুলিতে জল ঢুকছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার ব্রিগেড আনা হয়েছে।

বাঁকুড়ার সতীঘাট বাইপাস, জুনবেদিয়া-সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডেও জল ঢুকেছে। কবরভাঙা, অরবিন্দনগর, পলাশতলা এলাকা জলমগ্ন। সতীঘাট বাইপাস রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা পার্বতী রায় বলেন, “গত দশ বছরের মধ্যে এ বার প্রথম বাড়িতে জল ঢুকছে। জল কমার পরিবর্তে জল বাড়ছে। বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটু পর্যন্ত জল। ভীষণ  অসুবিধার মধ্যে রয়েছি।” অন্য দিকে অতি বৃষ্টির কারণে বাঁকুড়ার রাইপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন চার জন। দু’ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণে তাদের বাঁকুড়ার সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামি সতর্কতা জারি হল ইন্দোনেশিয়ার লম্বোক দ্বীপে


অন্য দিকে বাঁকুড়া শহরের দুই প্রান্তে থাকা গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। বাঁকুড়া-দূর্গাপুর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গন্ধেশ্বরী নদীর সতীঘাট এলাকা জলমগ্ন। অধিকাংশ এলাকা জলের তলায়। এ ছাড়াও দ্বারকেশ্বর নদীর জলে অসংখ্য ছোটো বড়ো কজওয়ে ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাঁকুড়া পৌরসভা ইতিবাচক ভূমিকা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ এলাকাবাসীর।

নিজস্ব চিত্র।

বাঁকুড়া শহরের পাশাপাশি গঙ্গাজলঘাটি, মেজিয়া-সহ দক্ষিণ বাঁকুড়ার তালডাংরা, সিমলাপাল, রাইপুর, সারেঙ্গার বিভিন্ন অঞ্চল বৃষ্টির কারণে জলমগ্ন। সিমলাপালের পাথরডাঙায় শিলাবতী নদীর কজওয়ে জলের তলায়। ফলে লক্ষ্মীসাগর-বাঁকুড়া ভায়া হাড়মাসড়া রাস্তায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন।

অন্য দিকে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ঝাড়গ্রাম। শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জন্য ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ছাউনি ঘর ভেঙে পড়ারও খবর পাওয়া গিয়েছে। চিল্কীগড় কালভার্টে বিপদসীমার উপর জল জাওয়ায় জামবনি -ঝাড়গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । বরবাড়ি বাঁধের জল প্লাবিত হওয়ায় মানিকপাড়া -ঝাড়গ্রাম যোগাযোগ বন্ধ।

অন্তত পক্ষে শতাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে সুত্রের খবর। পুরানো ঝাড়গ্রাম এলাকায় খালের জল প্লাবিত হয়ে বাড়ি ভাঙার ঘটনায় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসন। গোটা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জরুরি বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন। তবে সোমবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ঝাড়গ্রাম পুর প্রধান দুর্গেশ (শিবেন্দ্র বিজয়) মল্লদেব বলেন, “এ গুলি তো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। জল নিকাশি কাজ চলছে পুরোদমে, সময় লাগবে।” 

দক্ষিণবঙ্গের জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা থাকলেও এত পরিমাণ বৃষ্টি যে হবে সেটা আন্দাজ করতে পারেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এত বৃষ্টির কারণ কী?

রাতভর টানা বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম শহর জলমগ্ন

Posted by JHARGRAM NEWS FLASH on Sunday, August 5, 2018

এই প্রসঙ্গে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে যেটা ক্রমশ নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। সেই সঙ্গে মৌসুমী অক্ষরেখাও রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। কিন্তু বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম এই ঘূর্ণাবর্তের দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এর ফলে ওই দিকে মেঘ পুঞ্জিভূত হয়েছে, যার জন্য এত বৃষ্টি।” আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় এ রকম বৃষ্টি আরও দফায় দফায় চলতে পারে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here