ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: পছন্দের মিষ্টি যদি হয় জিলিপি, তা হলে আসতেই পারেন বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়াতে। কারণ শুধুমাত্র জেলার এই অংশেই একমাত্র জিলিপি মেলা বসে। বিশ্বকর্মা আর ভাদুপুজোর তিন দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় মেলা। বড়ো বড়ো কড়াইয়ে পেল্লায় সাইজের জিলিপির ডালা সাজিয়ে মিষ্টি তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন কেঞ্জাকুড়ার কারিগরেরা। অভিনব এই জিলিপি মেলায় বিকিকিনির মাঝেও জিলিপি নিয়ে চলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

জিলিপির কারিগর রাজু প্রামাণিক, মন্টু চন্দ বলেন, কলাই বা বিউলির ডাল বাটা, চাল গুঁড়ো, ময়দা দিয়ে গোলা তৈরি করে তেলে ভাজা হয় এই জিলিপি। তার পর আগে থেকে বানিয়ে রাখা রসে ডুবিয়ে রাখার অপেক্ষা। একের পর এক তিন থেকে চার কেজি ওজনের পেল্লাই সাইজের জিলিপি উধাও হয়ে যায়। আর এই বিশালাকার সুস্বাদু, মুচমুচে জিলিপির টানেই ফি বছর অসংখ্য মানুষ হাজির হয়ে যায় কেঞ্জাকুড়ার এই জিলিপি মেলায়।

স্থানীয় সাধন কর্মকার বলেন, এখানকার জিলিপি গ্রাম ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় ভিন জেলাতেও। আবার অনেকেই নিজের বাড়ির জন্য নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে উপহার হিসেবে পাঠান এখানকার বড়ো সাইজের জিলিপি।

ভাদুপুজোর নৈবেদ্যে ভাদুকে জিলিপি দেওয়ার রীতি বহুদিন ধরেই চলে আসছে। বিশিষ্ট শিক্ষক ও গবেষক সৌমেন রক্ষিত বলেন, মূলত ভাদুপুজোকে কেন্দ্র করেই বাঁকুড়ার বিভিন্ন অংশে জিলিপি তৈরি হয়। শুধুমাত্র কেঞ্জাকুড়াতে এই বড়ো আকারের জিলিপি তৈরি হয়। একমাত্র কেঞ্জাকুড়াতেই জিলিপিকে কেন্দ্র করে মেলা হয়। বাঁকুড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভাদু নিয়ে যেমন প্রতিযোগিতা হয় তেমনই জিলিপি নিয়েও খাদ্যরসিক মিষ্টিপ্রেমী জেলাবাসি অভিনব জিলিপি প্রতিযোগিতায় শামিল হন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন