জুহিকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেন বিজেপির যুব মোর্চার নেতা

0
105

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : কখনও একা, কখনও চন্দনা চক্রবর্তীর মুখোমুখি বসিয়ে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পিনটেল ভিলেজে দিনভর এ ভাবেই জেরা চলল জুহি চৌধুরীর। এবং প্রত্যাশানুযায়ী বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য জেরায় উঠে এসেছে বলে খবর সিআইডি সূত্রে। মঙ্গলবার ভারত-নেপাল সীমান্তের খড়িবাড়ি থেকে গ্রেফতার হন জুহি। ‘বিমলা শিশুগৃহের’ কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। সিআইডি সূত্রের খবর, আত্মগোপন করতে জুহিকে সাহায্য করেছিলেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই বন্ধুও ময়নাগুড়ির বিজেপির যুব মোর্চার নেতা। তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতেই জুহি লুকিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। বিজেপির ওই যুব নেতাকে ডেকে সিআইডি জিজ্ঞাসবাদ করতে পারে বলে খবর। ইতিমধ্যেই ওই নেতার বাড়িতে বেশ কয়েক বার গিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা।

এ দিকে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় একক ভাবে ও চন্দনার মুখোমুখি বসিয়ে জেরায় জুহির মুখ থেকে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। চন্দনার সাহায্য নিয়ে জুহি নিজেই কলকাতায় একটি হোম খুলতে চেয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গেও হোম খোলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এই বিষয়ে বিজেপির এক রাজ্য স্তরের প্রথম সারির নেত্রীর সঙ্গেও তিনি কথা বলেছিলেন। জেরায় চন্দনারও স্বীকারোক্তি, তাঁর হোমের বিষয়ে রূপা গাঙ্গুলি ও কৈলাস বিজয়বর্গীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন জুহি। স্বাভাবিক ভাবেই দলের একের পর এক নেতার নাম এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব। জুহির দেওয়া এই সব তথ্য খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

আরও পড়ুন :
juhi 
আদালতে জুহি, চান সিবিআই, দলীয় পদ থেকে অপসৃত

গত ১০ ফেব্রুয়ারি চন্দনাকে নিয়ে দিল্লি গিয়ে কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন জুহি তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে জুহিকে নিয়ে দিল্লি যেতে পারেন তদন্তকারীদের একটি দল। জেরায় আরও খবর, চন্দনার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জন্য ২১ লক্ষ টাকা অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রতিও দিয়েছিলেন ধৃত জুহি। বিনিময়ে ওই টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিজের জন্য দাবি করেছিলেন তিনি। ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে জুহির বাবা রবীন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। চন্দনা, জুহির সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনিও। তবে ঘটনায় জুহির নাম জড়ানোর পর থেকে একবার তাঁকে কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দফতরে দেখা গেলেও তার পর আর প্রকাশ্যে দেখা মেলেনি তাঁর। প্রয়োজনে তাঁকেও নিজেদের হেফাজতে নিতে পারে সিআইডি। বৃহস্পতিবার শিশুপাচার কাণ্ডে ধৃত সোনালি মণ্ডল ও মানস ভৌমিককেও বেশ কিছু ক্ষণ জেরা করা হয়। গতকাল সিআইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চন্দনা চক্রবর্তী ও সোনালি মণ্ডলের। তবে তদন্তের খাতিরে শুক্রবার আদালতে তুলে ফের চন্দনা চক্রবর্তীকে নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে সিআইডি। জুহি ও চন্দনাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে শিশুপাচার কাণ্ড নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here