tourists are being persuaded not to enter forest
বনে না ঢোকার জন্য পর্যটকদের বোঝাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আগামী তিন মাস জলপাইগুড়ি জেলার বনাঞ্চলগুলিতে ঢুকতে পারবেন না পর্যটকেরা। শনিবার থেকে জারি হল এই নিষেধাজ্ঞা। গরুমারা জাতীয় উদ্যান, নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যান, চাপড়ামারি অভয়ারণ্য, জেলার এই তিনটি বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফের খুলবে জঙ্গলগুলি। তবে শুধু জলপাইগুড়ি নয়, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং-সহ গোটা রাজ্যের সবগুলি বনাঞ্চলের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ জারি হয়েছে।

প্রতি বছরই বর্ষার মরশুমে পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় জঙ্গলগুলি। প্রাণীবিজ্ঞানীদের মতে, এই সময় বন্যপ্রাণীদের প্রজননের মরশুম। তাই এই সময় জঙ্গলে পর্যটকদের আনাগোনা বন্যপ্রাণীদের যেমন বিরক্ত করতে পারে, তেমনি  বিরক্ত হয়ে বন্যপ্রাণীরা মানুষের ওপরও আক্রমণ চালাতে পারে। মূলত এই কারণেই এই সময় জঙ্গলে মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন দফতর। এ ছাড়াও ঝড়-বৃষ্টির কারণে জঙ্গলের চলাচলের পথগুলিও ব্যাবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। শুধু জঙ্গল নয়, জঙ্গলের মধ্যে থাকা বনবাংলোগুলিও এই সময় বন্ধ রাখা হয়, কোনো বুকিং দেওয়া হয় না।

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বনাধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, প্রতি বছরই এই সময় জঙ্গলে পর্যটকদের প্রবেশে তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই বছরও সেই মতো একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

gorumara national park closed
বন্ধ গরুমারা জাতীয় উদ্যান।

তবে একটি বিষয় ঘিরে এ বছর বিতর্ক ছড়িয়েছে। জঙ্গলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও চাপড়ামারি অভয়ারণ্যের ওয়াচটাওয়ার পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। এই ওয়াচটাওয়ার থেকে বন্যজন্তুদের দেখতে পাওয়া যায়। এই নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, ওয়াচটাওয়ার খোলা রাখায় জঙ্গলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কোনো মানেই থাকছে না। তাঁদের যুক্তি, ওয়াচটাওয়ারে যেতে গেলে জঙ্গলের মধ্যে থাকা পথ দিয়েই যেতে হবে। তা হলে বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত হওয়ার ব্যাপার থেকেই যাচ্ছে। এই নিয়ে শনিবার বেশ কয়েকটি পরিবেশ ও পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা চাপড়ামারি অভয়ারণ্যে ঢোকার প্রধান গেটে যান। সেখানে পর্যটকদের বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিছু পর্যটক তাঁদের কথা শুনে ফিরেও যান। অনেকে আবার তাঁদের কথা মানতে চাননি। বর্ধমান থেকে আসা অপূর্ব রায় নামে এক পর্যটকের বক্তব্য, ওয়াচটাওয়ারে যাওয়ার জন্য তাঁরা টাকা খরচ বন দফতরের কাছ থেকে টিকিট কিনেছেন। তাই ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বন দফতরের কর্তারাও যুক্তি দিয়েছেন, ওয়াচটাওয়ারগুলি জঙ্গলের ‘কোর এরিয়া’র বাইরে। তাই পর্যটকরা এলেও বন্যপ্রাণীদের অসুবিধে হবে না। যদিও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ। একটি সংগঠনের সদস্য অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, তাঁরা এই ঘটনার বিরোধিতা করে বন দফতরকে জানিয়েছেন। এর পরও যদিও বন দফতর তাদের সিদ্ধান্ত বদল না করে তবে সোমবার থেকে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here