কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-আরএসএসের একটি সংখ্যালঘু সংগঠনের সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণ হিসাবে সংগঠনের ব্যাখ্যা, তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ফলে বিজেপির মুকুল রায় বা চন্দ্র বসুর মতো জ্যোতিপ্রিয়বাবুকেও তারা ডেকেছে। তবে ওই তারা মুথে যাই বলুক, রাজ্য রাজনীতিতে সদ্য গজিয়ে ওঠা ওই সংগঠন যে আদতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া মুকুলবাবুর নেতৃত্বেই প্রচারে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে, তা আর গোপন থাকছে না।

জানা গিয়েছে, ২০১৭-র শুরুর দিকে ওই আরএসএসের মদতপুষ্ট সংখ্যালঘু সংগঠন জন্মলাভ করে। কিন্তু নেতার অভাবে ঠিক ভাবে এগোতে পারছিল না। মুকুলবাবু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে ওই সংগঠনের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে আগামী শনিবার ওই সংগঠনের সেমিনারে আচমকা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামটাও যে মুকুলবাবুর অগোচরে ঢুকে পড়েছে, তা মানতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। উল্টে তাদের অনুমান, কোনো এক কারণে প্রাক্তন ওই সতীর্থের উপর মুকুলবাবুর ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের অধিকার নিয়েও তাঁকে সমীহ করতে চলতে বাধ্য হতে হতো। আর বিজেপিতে গিয়েও জ্যোতিপ্রিয়-ফ্যাক্টর পিছু ছাড়েনি।

উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মঞ্জু বসুর নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। পরে জানা যায়, প্রার্থী হওয়া দূরের কথা মঞ্জুদেবী বিজেপিতে যোগই দেননি। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূলে ছিলেন, থাকবেনও। বিজেপিতে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই তাঁর কাছে।

মুকুলবাবুর সমস্ত পরিকল্পনায় জল ঢেলেছিলেন যিনি, তিনি অন্য কেউ নন। খোদ তাঁর এক সময়ের সতীর্থ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মঞ্জুদেবীকে তো তিনি ধরে রাখলেন, উল্টো দিকে বিজেপির গত বিধানসভা নির্বাচনেক প্রার্থী আলো সরকারকেও তৃণমূলে টেনে নিলেন।

তা যাইহোক, জ্যোতিপ্রিয়বাবু যে ওই সেমিনারে যাচ্ছেন না, তা তিনি স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি অখ্যাত সংগঠনকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতে যে ধরনের পন্থা ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও নিন্দা করেছেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন