আচমকা ঠাকুরবাড়িতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়! ‘লাফালাফি’ ছাড়া কিছুই করতে পারবেন না, কটাক্ষ ফিরহাদ হাকিমের

0

কলকাতা: শনিবার সটান মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে হাজির হন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya)। বৈঠক করেন ঠাকুর পরিবারের একাংশের সঙ্গে। এ দিনের বৈঠক নিয়ে মিডিয়া সরগরম হলেও বিজেপির যে কোনো লাভই হবে না, তেমনটাই দাবি করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)।

কেন কৈলাসের ঠাকুরনগর যাত্রা?

কৈলাস জানিয়েছেন, শিষ্টাচারই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, “মতুয়ারা বিজেপির থেকে যা পেয়েছেন, তাঁরা অন্য কোনও ছাতার তলায় যাবেন না”।

তবে সংবাদ মাধ্যমের অনুমান, কেন্দ্রের মোদী মন্ত্রিসভায় শান্তনু ঠাকুরকে অন্তর্ভুক্ত করার বার্তা নিয়েই এ দিন কৈলাসের ঠাকুরনগর অভিযান। রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের এই সফরকে অবশ্য ধর্তব্যের মধ্যে আনতে চাইলেন না ফিরহাদ।

কী বলছেন ফিরহাদ হাকিম?

তিনি বলেন, “মতুয়াদের সঙ্গে তৃণমূল সরকারের সম্পর্ক বরাবরের জন্যই ভালো। মতুয়াদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কিছুই করেছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, ঘাট তৈরির পাশাপাশি বড়োমার জন্যেও অনেক কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই দু’দিনের জন্য সেখানে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এসে কিছুই করতে পারবেন না। যা করবেন তা শুধু লাফালাফি এবং তা নিয়ে নানা মিডিয়াতেও দেখানো হবে”।

মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে বলে দাবি করে ফিরহাদ বলেন, “এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম, বিষয়টি মোটেও এমনটা নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বরাবরের জন্যই মতুয়া সংগঠনের সম্পর্ক ভালো এবং আগামী দিনেও তারা তৃণমূল সরকারের সঙ্গে আছে”।

প্রসঙ্গ: রাজ্যপাল

রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত নতুন নয়। সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার কনভয়ে ইট ছোড়ার ঘটনায় সক্রিয় হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড় (Jagdeep Dhankhar)। তিনি কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ দিন রাজ্যপালকেও এক হাত নিয়েছেন ফিরহাদ। বলেন, “রাজ্যপাল অননুমোদিত। রাজ্যপাল নির্বাচিত হয়েছেন অমিত শাহের সৌজন্যে। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকারকে বাংলার মানুষের নির্বাচিত করেছে। তাই রাজ্যপাল কী বললেন, তাতে কোনো কিছু যায়-আসে না। বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেল, ছিলেন এবং থাকবেন”।

পুরভোট এবং সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ে হয়নি পুরভোট। প্রশাসক বসানো হয়েছে বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ পুরসভাগুলিতে। সম্প্রতি একটি মামলায় রাজ্যে পুরোভোট কবে সম্ভব, সে ব্যাপারে রাজ্যের জবাব জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

একই সঙ্গে এ দিন পুরভোট নিয়ে ফিরহাদ জানান, পুরভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই মুহূর্তে কোনো বৈঠক নেই বা স্টেট ইলেকশন কমিটির বৈঠকও নেই। তবে সুপ্রিম কোর্ট একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল। সে বিষয়ে রাজ্য অবহিত রয়েছে। কলকাতা পুরসভা নিজে মতো করেই কাজ করছে।

আরও পড়তে পারেন: নড্ডার নিরাপত্তার নজরদারিতে থাকা তিন আইপিএসকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন