রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়

জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির করলা নদী এখন দুরবস্থায় পড়েছে। নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছে। তার ওপর সেই নদীতেই প্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে। প্রতিমার গায়ের মাটি গিয়ে পড়ছে করলায়। দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যদিও প্রতিমা বিসর্জনের পর দিনই প্রতিমার কাঠামো নদী থেকে তুলে আনা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও যেটুকু মাটি জমছে সেটাই নদীর পক্ষে ক্ষতিকারক হচ্ছে বলে মনে করেন করলা নিয়ে আন্দোলনরত জলপাইগুড়ির সমাজ ও নদী বাঁচাও কমিটির সদস্যরা।

জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করলা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। কারণ দু’টি নদীই শহরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। রাজ্যের কোথাও একটি শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত কোনো নদী পাওয়া যাবে না।১৮৬৯ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে জলপাইগুড়ি জেলার পত্তন হওয়ার পর জলপাইগুড়ি শহর জেলা সদর হয়। তার আগে রাস্তাঘাট ছিল না। জলপাইগুড়ির যাঁরা পুরোনো বাসিন্দা তাঁরা জানিয়েছেন দক্ষিণবঙ্গ থেকে নৌকোয় করে তিস্তা নদী দিয়ে এসে করলা নদী দিয়ে তাদের পূর্বপুরুষরা জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন। তখন নৌকোই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

ইংরেজ আমলে জলপাইগুড়ির সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ, বাণিজ্য, যাতায়াত, সব কিচুই করলার মাধ্যমে হত। তখন নদীর নাব্যতা প্রচুর ছিল। এখন সেই নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছে। এখন করলার মধ্যে কোথাও হাঁটুজল আবার কোথাও কোমরজল। আর ক’দিন পরে শীতের সময় জল আরও কমে যাবে। তখন হেঁটে করলা পারাপার করা যাবে। জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে এঁকেবেঁকে করলা নদী ৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। সারা বছর ধরে সমস্ত পুজোর প্রতিমা বিসর্জন করলা নদীতে হয়। দুর্গাপুজো এবং কালীপুজো বাদ দিয়ে কখনও কোনো প্রতিমার কাঠামো নদী থেকে তোলা হয় না। দুর্গাপুজো এবং কালীপুজোর পর প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গেলে পুরসভার পক্ষ থেকে প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তুলে আনা হয়। কিন্তু মাটি নদীতে পড়ে থাকে।

করলার দূষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জলপাইগুড়ির সমাজ ও নদী বাঁচাও কমিটি। তারা বহু দিন ধরে করলা নদী নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। এই কমিটির সদস্যদের দাবি, অবিলম্বে করলার নাব্যতা বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। জলপাইগুড়ির সমাজ ও নদী বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “জলপাইগুড়ি পুরসভা, সেচ দফতর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সবার কাছে আমরা করলার নাব্যতা বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছি। কেউ কিছুই করছেন না। নাব্যতা বাড়লে নদীতে প্রতিমা বিসর্জন হলে কোনো ক্ষতি হবে না। আবিলম্বে করলার নাব্যতা না বাড়ালে জলপাইগুড়ি শহরের সামনে বিপদ ঘনিয়ে আসবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here