kartik puja
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

শুক্রবার সমগ্র রাজ্য জুড়েই পালিত হল দেবসেনাপতি কার্তিকের আরাধনা। বারোয়ারি বা সর্বজনীন বা পারিবারিক, কার্তিকপুজোয় মেতে ছিল বাঙালি। কিন্তু সারা রাজ্যে যখন শুক্রবারই কার্তিকপুজো শেষ হয়ে গেল, তখন বাঁকুড়ার সোনামুখী কিন্তু আনন্দ সবে শুরু করেছে। কারণ শুক্রবার শুরু হলেও, পাঁচ দিন ধরে চলবে এই পুজো। পাঁচ দিন সোনামুখীবাসী মেতে থাকবেন কার্তিক বন্দনায়।

সোনামুখীর প্রাণকেন্দ্রে স্বর্ণময়ী মাতা ঠাকুরানির মন্দির অবস্থিত যা বর্তমানে শ্যামবাজার নামে পরিচিত। এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা বলেন, এই অঞ্চলে সাহা বংশের কিছু লোক বসবাস করতেন। তাঁরাই এখানে কার্তিকপূজা শুরু করেছিলেন।

কিন্তু কালক্রমে তাঁরা এই সোনামুখী ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী কালে শ্যামবাজারের ঘর, হালদার, রক্ষিত-সহ অন্যান্য পরিবার ধুমধাম সহকারে এই কার্তিকপূজা চালু করেন। এই পুজো ‘মধ্যম কার্তিক’ বা ‘মাইতো কার্তিক’ নামে পরিচিত ।

এই পুজোর বিশেষত্ব হল চাঁদার কোনো জুলুম না থাকা। সোনামুখীর কোনো দোকান থেকে, রাস্তায় গাড়ি আটক করে অথবা কোনো বাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করা হয় না। শুধু পাড়ার মধ্যেই চাঁদা তোলা হয়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পাড়ার মানুষ চাঁদা সংগ্রহ করে পাঁচ দিনব্যাপী দেবসেনাপতির আরাধনা করেন। জেলার অন্যত্র যখন চাঁদার জুলুমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ সেখানে সোনামুখী এলাকার মানুষের চাঁদা সংগ্রহ করা যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে।

সোনামুখীর বাসিন্দা অঙ্কিত ঘর বলেন, “সোনামুখীতে বড়ো কার্তিক, গুঁইপাড়া কার্তিক, মহিষগোট কার্তিক, নীলবাড়ি কার্তিক, নিমতলা কার্তিক, বকুলতলা কার্তিক, ঘূর্ণি কার্তিক, শিখা কার্তিক-সহ ছোটো বড় শতাধিক কার্তিক পুজো হয়। পুজো উপলক্ষে আশেপাশের অঞ্চল থেকে বহু মানুষের সমাগম ঘটে।”

চতুর্থ দিন বিসর্জনের শোভাযাত্রা বের হয়। সারা রাত মিছিল করে ঠাকুর ঘোরানো হয়। বাজার চৌমাথায় আতসবাজির খেলা হয়। পঞ্চম দিন সকালে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। কার্তিক পুজোয় কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here