hailstorm
রবিবার কলকাতায় শিলাবৃষ্টি।

ওয়েবডেস্ক: রবিবার কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এটাই প্রথম নয়। এ বছর ফেব্রুয়ারিতেও শিলাবৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। জেলাগুলিতেও মাঝেমধ্যেই কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে।

শিলাবৃষ্টিকে এক দিকে মানুষ যেমন উপভোগ করেন অন্য দিকে এটা বয়ে এনে একরাশ চিন্তা। উপভোগের কারণ ঘরে বসেই তুষারপাতের সমতুল্য কিছু জিনিস দেখতে পাওয়া, আর চিন্তার কারণ এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি হয় বিস্তর। নষ্ট হয়ে যায় চাষাবাদ।

এই প্রসঙ্গে অনেকের মনেই হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে, এই শিলাবৃষ্টি হওয়ার কারণ কী? কোন সময়েই হতে পারে এই শিলাবৃষ্টি।

শিলাবৃষ্টির মূল সময়ে চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত। অর্থাৎ মার্চের মাঝামাঝি থেকে বর্ষার আগে পর্যন্ত শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। তবে মে’র মাঝামাঝি পর্যন্ত এর প্রবণতা সব থেকে বেশি। শিলাবৃষ্টি কী ভাবে তৈরি হয় একটু জেনে নিই।

আরও পড়ুনতাপমাত্রাকে টেনে নামাল কালবৈশাখী, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি জেলায়, আগামী দু’দিনও শিলাবৃষ্টি?

চৈত্র মাস থেকে ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভুমি অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। দিনের বেলায় প্রবল গরমের ফলে ওখানকার হাওয়া গরম হয়ে উপরে উঠে যায়। তার শূন্য স্থান পূরণ করতে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছুটে যায় জলীয় বাষ্পভরা ঠান্ডা বাতাস। সেই সঙ্গে হিমালয়ের দিক থেকে আসা হাওয়াও যোগ দেয়। ঘূর্ণাবর্ত রূপে কোনো অনুঘটক থাকলে এই হাওয়াগুলির সংমিশ্রণে তৈরি হয়ে উল্লম্ব মেঘপুঞ্জ।

এই মেঘপুঞ্জ যখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭-১৮ কিমি ওপরে উঠে যায়, তখন তা ক্রমশ ঠান্ডা হতে শুরু করে। এই ঠান্ডা হওয়ার ফলে এই মেঘপুঞ্জ থেকে ছোটো ছোটো বরফকণার সৃষ্টি হয়। এই ছোটো ছোটো কণা, আশেপাশের আরও শিলাখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড়ো শিলাখণ্ডে পরিণত হয়। এই শিলাখণ্ড যখন ভারী হয়ে যায়, তার ওজন আর বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। তখনই এগুলো শিলাবৃষ্টির আকারে ভূপৃষ্টে নেমে আসে।

বায়ুমণ্ডলে থাকা শিলাখণ্ডগুলো অবশ্য অনেক বড়ো আকারে থাকে। মাটিতে ঝরে পড়ার সময় শিলাখণ্ডগুলো একে অন্যের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে ছোটো হয়ে যায় এবং তা ছোটো ছোটো আকারের শিলা হিসেবে নেমে আসে। শিল পড়ার গতি ঘণ্টায় ৬০ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। তবে সাধারণত ১৫ মিনিটের বেশি শিলাবৃষ্টি হয় না। শিলাবৃষ্টিতে গড়ে একটা শিলার ব্যাস হয় ৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটারের মধ্যে। শিলার ব্যাস পৌনে এক ইঞ্চি না হলে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির সম্ভাবনা তেমন থাকে না। তবে এর চেয়ে বড়ো ব্যাসের শিলা হলে ব্যাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিলার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে থাকে।

শিলাবৃষ্টির সময়ে কী করবেন?

১) কোনো ভাবেই রাস্তায় বেরোবেন না।

২) যদি রাস্তায় থাকেন তা হলে অবিলম্বে শেডের তলায় আশ্রয় নিন। তবে কংক্রিটের শেড হওয়া বাঞ্ছনীয়। টিনের চালের ক্ষতি করতে পারে শিলাবৃষ্টি।

৩) শিলাবৃষ্টির সময়ে গাড়ি এক্কেবারে আসতে চালাবেন। খুব ভালো হয়, যদি কিছুক্ষণের জন্য গাড়ি চালানো বন্ধ রাখেন।

৪) শিলাবৃষ্টি শুরু হলে আমরা অনেকেই রাস্তায় বেরিয়ে যাই শিল কুড়োতে। সেটা কখনও করবেন না। কারণ শিলাবৃষ্টির সময়ে ভয়ংকর বজ্রপাতের সম্ভাবনা থেকে যায়। সেই একই কারণে শিলাবৃষ্টিকে ক্যামেরাবন্দি করা থেকেও বিরত থাকুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here