রাজ্যের এক বিধায়ক যিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সমীহ করেন, জ্যোতি বসুকে শ্রদ্ধা করেন, মোদীকে হৃদয়ে রাখেন আবার ঘিসিংকে গুরু মানেন

0

ওয়েবডেস্ক: একই শরীরে তাঁর অনেকগুলি সত্তা। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট সমীহ করেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিনে শ্রদ্ধাশীল টুইট করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হৃদয়ে রাখেন আবার সুবাস ঘিসিংকে গুরু মানেন।

তিনি দার্জিলিংয়ের নবনির্বাচিত বিধায়ক নিরজ জিম্বা। বিজেপির টিকিটে লড়ে সদ্য বিধায়ক হয়েছেন তিনি। কিন্তু এখনও জিএনএলএফের সদস্যপদই রয়েছে তাঁর। নিজেকে জিএনএলএফ নেতা মানতেই পছন্দ করেন।

দার্জিলিংয়ের বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি সদ্য হারিয়েছেন জিটিএ-র চেয়ারম্যান, তৃণমূলের টিকিটে লড়া একদা বন্ধু বিনয় তামাংকে। বাংলা খুব একটা বেশি বুঝতে পারেন না, তাই বিধানসভায় অসুবিধা হচ্ছে বিস্তর। সে কারণে বাংলা শিখতে চাইছেন তিনি।

এ রাজ্যের এক সংবাদমাধ্যমকে নিরজ বলেন, “আসলে বাংলাটা না জানলে এখানে কাজ করা মুশকিল। বিধায়ক, মন্ত্রীরা কত কথা বলছেন। বুঝতে পারছি না। তাই বাংলাটা শিখতেই হবে।” কয়েক দিন হল কলকাতায় এসেছেন তিনি। এখন এই শহরটাকে ভালো করে চিনে নিতে চাইছেন তিনি। এমএলএ হস্টেল লাগোয়া কিড স্ট্রিটে রোজ সকালে কয়েক চক্কর দৌড় দিচ্ছেন। সেই কথা তুলে ধরে বিধানসভায় বসে তিনি বলেন, “পাহাড়ের ঠান্ডা আবহাওয়া, কুয়াশার আমেজে আমাদের দিন কাটে। এখানে বড্ড গরম। কিন্তু শরীরটা তো রাখতে হবে।”

আরও পড়ুন গত বছর ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া রাজ্যে এখন বৃষ্টির জন্য হাহাকার!

কিন্তু নিরজকে নিয়ে কৌতূহল যে অন্য জায়গায়। তিনি কোন দলের সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না। পাহাড়ে বছর দুয়েক আগে আগুনে আন্দোলনে তিনি ছিলেন চাণক্য। জিএনএলএফের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা হয়েও যৌথ আন্দোলনের রূপরেখা বানাতেন বিমল গুরুং আত্মগোপন করার পর। এখন? “আমার ডিএনএ হল জিএনএলএফ। সুবাস ঘিসিংয়ের শিষ্য আমি। এখনও দলেই আছি।” বলেই হাতের সদ্য করানো ঘিসিংয়ের ট্যাটুটি দেখান আইনজীবী জিম্বা।

তা হলে বিজেপির টিকিটে লড়লেন কেন? “দেখুন বিজেপি হল সময়ের দাবি। পাহাড়ের চাহিদা পূরণের অস্ত্র। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমার হৃদয়ে। পাহাড় তাঁর দিকে তাকিয়ে। যদি দাবি পূরণ হয়,” অকপট উত্তর তাঁর। তিনি বলতে থাকেন, “আসলে আমরা চেয়েছিলাম খুকরি চিহ্নে লড়তে। কিন্তু তা নিশ্চিত ছিল না। তা ছাড়া বিজেপি শর্ত দিয়েছিল, ওদের প্রতীকে লড়তে হবে। আমরা রাজি না হলে গুরুংপন্থী মোর্চা, সিপিআরএম, গোর্খা লিগ বা পাহাড়ের অন্য কোনো দল সম্মতি দিত। সুযোগ হাতছাড়া হত আমাদের। তাই পদ্ম নিয়ে লড়াই।”

তিনি যে দুই নৌকায় পা রেখেই বিধানসভায় ঢুকেছেন, সে কথাও স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই জিম্বার। সত্যিই অনন্য এক চরিত্র পাহাড়ের চাণক্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করা এই জিম্বা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here