খবরঅনলাইন ডেস্ক: দুপুর আড়াইটেতেই নামল সন্ধ্যার অন্ধাকার। কলকাতার বাড়িঘরে তখন জ্বলে উঠেছে আলো। আকাশ তখন কুচকুচে কালো। এমন কালো মেঘের ঘনঘটা খুব সচরাচর দেখা যায় না, আর গরমের দুপুরে তো আরোই না।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি নামল ঝেঁপে। সঙ্গী হল মুহুর্মুহু বজ্রপাত। গরমের চিরাচরিত কালবৈশাখী এ দিন হয়নি। বরং বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গেই মিল ছিল মঙ্গলবার দুপুরের বৃষ্টির।

Loading videos...

গত সপ্তাহ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া বৃষ্টির জন্য অনুকূল হয়ে উঠেছিল। দফায় দফায় বৃষ্টিও হয়েছে ভালোই। আবহাওয়া দফতরের হিসেব বলছে মে’র প্রথম দশ দিনেই ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি পেয়ে গিয়েছে কলকাতা। কিন্তু এ দিন দুপুরের বৃষ্টিটা গত কয়েকদিনের বৃষ্টিকে হারিয়ে দিয়েছে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, কলকাতার বিভিন্ন অংশ এ দিন মুষলধারে বৃষ্টিতে ভেসেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা বৃষ্টি বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ কিছুটা কমলেও তার পরেও দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে শহরে।

কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। বোলপুরে ঝড়ে প্রচুর গাছ পড়েছে বলে খবর। মালদহে আমের চাষে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদে বাজ পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এই মুহূর্তে রাজ্যে আচমকা প্রাক বর্ষার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে বিহারে একটি নিম্নচাপ বলয় রয়েছে, এবং বঙ্গোপসাগরে একটি উচ্চচাপ বলয় রয়েছে। এই কারণে দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে।

এর জেরেই এ দিন দুপুরের পর কলকাতার ওপরে স্থানীয় ভাবে একটি বজ্রগর্ভ মেঘপুঞ্জ তৈরি হয় এবং পশ্চিমের জেলাগুলি থেকে আরও একটি বজ্রপুঞ্জ মেঘমুঞ্জ এগিয়ে আসে। এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই ব্যাপক বৃষ্টি নামে এ দিন। শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে এই রকম ভাবে দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে ফিরতে পারে গরম।

আরও পড়তে পারেন করোনা রুখতে গোবর মাখবেন না, এতে অন্যান্য রোগের ‘ঝুঁকি’ রয়েছে, সতর্কতা চিকিৎসকদের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.