wrivuশ্রয়ণ সেন

দু’নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে চোখে পড়ল ঝাঁ চকচকে পশ্চিমবঙ্গ মণ্ডপ, কলকাতা পুলিশ আর পশ্চিমবঙ্গ ফায়ার ব্রিগেডের স্টল। মনে হল, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে বইমেলা। কিন্তু যত ভিতরে ঢুকলাম, আসল ছবিটা চোখে পড়ল।

যত্রতত্র ছড়িয়ে রয়েছে বাঁশ, প্লাই, রঙের বালতি এমনকি পেরেক। আসলে বহু প্রকাশক এখনও নিজেদের স্টল গুছিয়েই উঠতে পারেননি। আগে কখনও এই ছবিটা দেখেনি কলকাতা বইমেলা। আগে মেলার প্রথম দিন  অগোছালো থাকত, কিন্তু এ বার তো রেকর্ড। প্রথম দিন পেরিয়ে দ্বিতীয় দিনে পড়ল, সন্ধে হয়ে গেল, তবুও এখনও স্টলই তৈরি হল না।   

একেই নোট বাতিলের খাঁড়া ঝুলছে মাথার ওপরে, তার ওপর গোটা দু’টো দিন যদি মাঠে মারা যায়, তা হলে কতটা কী ব্যবসা করা যাবে সে ব্যাপারে চিন্তার ভাঁজ বিক্রেতাদের কপালে। প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটির দিন, দুপুরের পরেই মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পা পড়েছে অনেক মানুষের। তাদের বেশির ভাগ যেমন বইয়ের টানে এসেছেন, তেমন অনেকে এসেছেন শুধু খাওয়ার টানে। কিন্তু বইয়ের দোকান তো বটেই, স্টল তৈরি করে উঠতে পারেনি খাবার বিক্রেতারাও।

1

কিন্তু এই অবস্থা কেন এ বারের বইমেলার? অনেকেই দুষছেন প্রস্তুতির সময় না পাওয়াকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকাশক সংস্থার কর্তা বলেন, “গত সপ্তাহে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের অনেক পরে আমরা দোকানের কাজে হাত দিতে পেরেছি।” বুধবার স্টল খোলা সম্ভব হয়নি, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে স্টল পুরোপুরি তৈরি হলেও এখনও ক্রেতা আসেনি। দু’দিন ব্যবসা না হওয়ার ফলে তিনি বেশ চিন্তিত কিন্তু ব্যবসার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবেন বলে আশাবাদীও ওই কর্তা। তাঁর কথায়, “সবে তো শুরু হল, এখনও দুটো উইকএন্ড বাকি। সরস্বতী পুজোর ছুটি রয়েছে। ক্ষতি ঠিক কাটিয়ে উঠব।”

অনেক দোকান এখনও তৈরি না হওয়ায় হতাশ বইপ্রেমীরাও। হালিশহর থেকে সপরিবার বইমেলা এসেছেন অমল দাশগুপ্ত। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন একটা তালিকা। এ বার মেলায় কী বই কিনবেন সেই তালিকা। ইচ্ছে ছিল বৃহস্পতিবারই সব কেনাকাটা করে নেবেন, কিন্তু স্টল তৈরি না হওয়ায় আবার এক দিন আসার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বইমেলাকে এ রকম অপ্রস্তুত দেখব ভাবতে পারিনি। তালিকা অনুযায়ী অনেক বইই কেনা হল না। আবার আসতে হবে এক দিন।”

2

তবে চিরাচরিত ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে দে’জ আর আনন্দ-র স্টলের সামনে। আবার দোকানের মধ্যে বই থাকলেও বাইরে কাজ চলছে পারুল প্রকাশনী, অনুষ্টুপ, প্রতিভাস প্রভৃতি স্টলে। অন্য দিকে থিম কান্ট্রি কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়ন একেবারে তৈরি হয়ে গেলেও, একুয়াদোর, ভেনেজুয়েলার মতো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর স্টল এখনও তৈরি হয়ে ওঠেনি। প্রকাশক, বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে ভালো কিছুর আশা করাই ভালো।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here