স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে বুধবার এক কর্মশালার আয়োজন করেছিল কলকাতা পুর নিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ। 
যে হেতু ডেঙ্গি এবং স্ক্রাব টাইফাসের উপসর্গ একই, তাই স্ক্রাব টাইফাসকে কী ভাবে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় তা নিয়েই আলোচনা হয় এই কর্মশালায়। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ-এর সহকারী অধ্যাপক ড. প্রভাসপ্রসূন গিরির নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় যোগ দেন কেএমসি- র অধীনস্থ চিকিৎসক ও বোরো এক্সিকিউটিভরা। তবে জনসাধারণের মধ্যে যাতে কোনও রকম আতঙ্কের সৃষ্টি না হয় তার জন্য এখনই মাইকিং বা লিফলেট বিলির মাধ্যমে সচেতনতা প্রচার করবে না কলকাতা পুর নিগম।
অন্য দিকে স্ক্রাব টাইফাস রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুর নিগম। ডেঙ্গি উপসর্গের এই রোগ মূলত হয়ে থাকে এক ধরনের পতঙ্গের থেকে। যদিও কোন ধরনের পতঙ্গ থেকে এই রোগ ছড়াচ্ছে তা অবশ্য স্পষ্ট নয় বিশেষজ্ঞদের কাছে। কলকাতা পুর নিগমের পতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন ঝোপঝাড়, নোংরা আবর্জনা অথবা জমা জলে সাধারণত স্ক্রাব টাইফাস রোগবহনকারী পতঙ্গটি জন্মায়। 
কলকাতা শহরে এখনও এমন বহু জায়গা আছে যেখানে সারা বছরই ঝোপঝাড় বা আবর্জনার স্তূপ লক্ষ করা যায়। কেএমসি-র অধীনে থাকা এই ধরনের জায়গাগুলি কলকাতা পুর নিগম নিজ উদ্যোগে সাফাই করবে। কিন্তু ব্যাক্তি মালিকানাধীন জায়গার ক্ষেত্রে কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ জানান, কলকাতা পুর নিগমের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন এমন বহু জায়গা আছে যেখানে কোথায় ঝোপঝাড়ে ভর্তি কোথাও আবার আবর্জনার স্তূপ।  এই সব ক্ষেত্রে প্রথমে অ্যাসেসমেন্ট রেজিস্টার দেখে জমির মালিককে চিহ্নিত করা হবে। পরে পুর আইনের ৪৯৬ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে একটি নোটিশ দেওয়া হবে। প্রথম নোটিশে কাজ না হলে পাঠানো হিবে দ্বিতীয় নোটিশ। তাতেও যদি কাজ না হয় তা হলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের দক্ষিণ ও উত্তরপশ্চিমে, বাংলাদেশের পূর্বাংশে, মায়ানমার ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই স্ক্রাব টাইফাস রোগের প্রাদুর্ভাব আছে।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here