ওয়েবডেস্ক: ৪০ বছর ধরে একটা কাজে ব্রতী ছিলেন ৮৮ বছর বয়সি ব্রিটিশ চিকিৎসক জ্যাক প্রেগার। কলকাতার গরিব ফুটপাথবাসীদের চিকিৎসা করতেন তিনি। কিন্তু আর না। বয়স হয়েছে। ফলে অবৈতনিক এই পরিষেবা থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন জ্যাক।

গরিব বস্তিবাসী এবং ফুটপাথবাসীদের চিকিৎসা করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য জ্যাকের। সেই কারণেই ৪০ বছর আগে ‘ক্যালকাটা রেসকিউ’ নামে একটি দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা চালু করেন তিনি। এত দিন পর্যন্ত পাঁচ লক্ষ মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

সারা বিশ্বেই গরিবদের কাছে কী ভাবে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে পথিকৃৎ জ্যাক। যক্ষ্মা, কুষ্ঠ এবং এইড্‌সের ব্যাপারে বেশ কিছু কাজকর্ম ছিল জ্যাকের। এমনকি বহু বছর ধরেই তাঁর দাতব্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে এইচআইভির চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যেত।

বয়সের ভারে দৃষ্টিশক্তি কমেছে জ্যাকের। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজের কাজ থেকে কখনও সরে আসেননি তিনি। মাঝেমধ্যেই ‘ক্যালকাটা রেসকিউ’-এ যেতেন তিনি। ভরসা দিতেন রোগীদের। তাঁকে দেখেই চাঙ্গা হয়ে যেতেন রোগীরা।

এই মুহূর্তে ‘ক্যালকাটা রেসকিউ’-এর দায়িত্বে রয়েছেন চিফ এগজিকিইটিভ জয়দীপ চক্রবর্তী। তাঁর ওপরে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে জ্যাক বলেন, জয়দীপ এবং তাঁর দল ক্যালকাটা রেসকিউকে আরও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

জ্যাকের কথায়, “ক্যালকাটা রেসকিউ এখন যে জায়গায় রয়েছে, সেই জায়গায় তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই কেন্দ্রের যে ঐতিহ্য ছিল, সেটা শিক্ষা দেওয়াই হোক বা চিকিৎসা দেওয়া, সেই ঐতিহ্য বহাল থাকবে বলেই আমি আশা করছি।”

আরও পড়ুন আসছে মোদীকে নিয়ে নতুন সিনেমা! দেখার অপেক্ষা করতে বললেন মমতা

জয়দীপবাবু বলেন, “জ্যাকের মতো মানুষকে আমরা আর পাব না। ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে খোঁজাখুঁজি করলে জ্যাকের মতো কাউকে পাওয়া যাবে। জ্যাককে আমরা আর পাব না, কিন্তু তাঁর সংস্থা ‘ক্যালকাটা রেসকিউ’ তো থাকছে। কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য তিনি যা অবদান রেখে গিয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই।”

১৯৩০ সালে ব্রিটেনের ম্যানচেস্টারে জন্ম হয় জ্যাকের। প্রথমে চাষিই ছিলেন তিনি। কিন্তু চাষাবাদের কাজ করার সময়েই এক দিন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নাদেশ পান জ্যাক। তার পর ৩৫ বছর বয়সে চিকিৎসা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।

প্রথমেই তাঁর গন্তব্য হয় সদ্য গঠিত বাংলাদেশ। যুদ্ধ থেকে সবে মুখ তুলে দেখছে নতুন এই দেশটি। সেখানে যুদ্ধ বিধ্বস্তদের জন্য ৯০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করেন তিনি। ১৯৭৯-এ বাংলাদেশ ছেড়ে পাকাপাকি ভবে কলকাতায় চলে আসেন জ্যাক।

এর পরেই ফুটপাথবাসী এবং বস্তিবাসী গরিব মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করেন জ্যাক। গড়ে তোলেন ‘ক্যালকাটা রেসকিউ।’ কিন্তু আর না, নিজের প্রিয় এই শহরটাকে ছেলে মাতৃভূমিতেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শেষ জীবনটা যে সেখানেই কাটাতে চান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here