molestation-at-metro-station

কলকাতা: সোমবার রাতের ‘নীতি পুলিশগিরিতে’ ক্ষোভে ফেটে পড়ল কলকাতা। মেট্রোতে যে ভাবে এক যুগলকে কয়েক জন বয়স্ক পুরুষ নিগ্রহ করলেন তাতে দোষীদের চূড়ান্ত শাস্তি দাবি করেছেন অধিকাংশ মানুষ।

উল্লেখ্য, মেট্রোর মধ্যে প্রকাশ্যে আলিঙ্গন করার অপরাধে যুগলকে হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ সোমবার রাতে দমদমগামী মেট্রোয় উঠেছিলেন ওই তরুণ তরুণী ৷ ভিড়ের মাঝে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিল ওই যুগল। তাতেই তীব্র আপত্তি জানাতে শুরু করেন কিছু সহযাত্রী ৷

দমদম স্টেশন পৌঁছেতেই তাদের ট্রেন থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হয় প্ল্যাটফর্মে৷ এর পর মারধর করতে শুরু করেন যাত্রীরা ৷ গণপ্রহারে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই মধ্যবয়সি বা প্রৌঢ়৷ যাঁদের কাছ এই রকমের ব্যবহার একদমই অপ্রত্যাশিত৷ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি কেউই।

আরও পড়ুন বহু ভারতীয়ই মনে করেন মেয়েদের মার খাওয়া উচিত, বলছে সমাজকর্মীর সমীক্ষা

এই ঘটনার পরেই ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি সাধারণ মানুষ। কোনটা শ্লীল এবং কোনটা অশ্লীল এটা ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব কে ঠিক করে দিল, এমনই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

অনেক মানুষই মনে করছে, প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ কোনো অপরাধ নয়, চুমু খেলেই সব দোষের। অনেকেরই মতে, রাস্তায় নোংরা ফেললে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু আলিঙ্গন করলেই যেন অনেকের গা জ্বলতে শুরু করে। অনেকের অভিযোগ, রাস্তায় কোনো তরুণীকে ধর্ষিতা হতে দেখলেও কিছু কেউ কিছু বলে না, অথচ দু’জনের আলিঙ্গনই যত দোষের।

অনেকের দাবি এই ব্যাপারে যাত্রীদের যদি এতটাই সমস্যা থাকত তা হলে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারতেন। এই সংক্রান্ত একটি ধারাও রয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে। ২৯৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন, অন্যদের আপত্তি সত্ত্বেও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন, গান গেয়ে যান, তা হলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল হতে পারে তাঁর।

এ দিকে এই নিগ্রহে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার দাবিতে মঙ্গলবার দমদম স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। এই ঘটনার পরে কলকাতা মেট্রোয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই নিগ্রহের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে টুইট করেছেন তসলিমা নাসরিনও। দেখে নিন কী ভাবে প্রতিবাদ জানাল সোশ্যাল মিডিয়া?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here