কলকাতা: শুক্রবার ছিল ‘ট্রেলার’। ‘পিকচার’ দেখা গেল শনিবার। এপ্রিলের প্রথম কালবৈশাখী পেল কলকাতা।  তার ফলে এক দিকে যেমন স্বস্তি এল, অন্য দিকে গাছ পড়ে বিপর্যস্ত হল যান চলাচল।

ঝড়বৃষ্টির অনুকুল পরিস্থিতি তৈরিই ছিল কয়েক দিন ধরে, কিন্তু জেলায় হলেও কিছুতেই কলকাতার ভাগ্য খুলছিল না। অবশেষে শনিবার বিকেলের দিকে রাডার-চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদরা বুঝতে পারেন, যে জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও বয়ে যাবে কালবৈশাখী। এক দিকে যেমন সরকারি আবহাওয়া দফতর কলকাতায় ঝড়ের সতর্কতা জারি করে, অন্য দিকে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ‘ওয়েদার আল্টিমা’ও জানিয়ে দেয়, কালবৈশাখীর থেকে বঞ্চিত হবে না শহর। সেই পূর্বাভাসকে সত্যি করে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় কালবৈশাখী আছড়ে পড়ে কলকাতায়।

কলকাতায় আছড়ে পড়ার আগে শনিবার দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। এই ঝড়ের উৎপত্তি হয়েছিল ঝাড়খণ্ডের দুমকার কাছে ছোটোনাগপুর মালভুমি অঞ্চলে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি হয়ে কলকাতায় আসে ঝড়টি।

কালবৈশাখীর তকমা পেতে গেলে যে শর্ত পূরণ করতে হয়, এ দিন তা পূরণ করেছে কলকাতার ঝড়। ‘ওয়েদার আল্টিমা’র কর্ণধার আবহাওয়াবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “এপ্রিলের প্রথম কালবৈশাখী পেল কলকাতা। শহরে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৭৫ কিমি।” এর পাশাপাশি তিনি জানান, শহরে গড় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২৩ মিমি। সেই সঙ্গে একশোর ওপর বিদ্যুতের ঝলকানি ধরা পড়েছে তাঁর যন্ত্রে।

তবে ঝড়বৃষ্টি স্বস্তি দিয়ে গেলেও, বিপত্তিও ডেকে এনেছে। ঝড়ের ফলে লেক মার্কেট, হরিশ মুখার্জি রোড, ভিআইপি বাজারে গাছ পড়েছে। এর ফলে ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। অন্ যদিকে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ব্যাহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। রবিবারও বিকেলে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রবীন্দ্রবাবুর মতে, হাওয়ার দাপট শনিবারের থেকে কমই হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here