durga puja rain

ওয়েবডেস্ক: এ বার মা দুগ্‌গার যেন খুব তাড়া। সেপ্টেম্বরেই বাপের বাড়ির পাট সাঙ্গ করে কৈলাসে পাড়ি দেবেন উমা। অর্থাৎ হাতে রয়েছে কুড়ি দিনের কিছু বেশি সময়। এখন তো আবার মহালয়া থেকেই পুজো শুরু। সেই বিচার করলে আর দিন পনেরোর মধ্যেই ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়ে যাবে।

পুজোপ্রেমীদের কাছে এখন একটাই চিন্তা, বৃষ্টি। বরুণদেব কি একটু সহায় হবেন নাকি তাঁর রুদ্ররূপ পুজোকে মাটি করে দেবে? শুক্রবারের বৃষ্টি সেই চিন্তা আরও বাড়িয়েছে মানুষের মধ্যে। শুক্রবার বিকেলের মাত্র দেড় ঘন্টার বৃষ্টিতে স্তব্ধ হয়ে পড়ে কলকাতার জনজীবন। একটা রেকর্ডও করেছে শুক্রবারের বৃষ্টিটা। এক ঘণ্টায় ৭০ মিলিমিটার হারে বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। ঘণ্টা দেড়েক বৃষ্টি চলেছে। তাই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ৯০ থেকে ১০৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু ভাবুন তো এক বার, ওই বৃষ্টি যদি বেশ কয়েক ঘণ্টা চলত তা হলে কী হত?

পাঁচ ঘণ্টা চললে হত সাড়ে তিনশো মিলিমিটার আর যদি মুম্বইয়ের মতো বারো ঘণ্টা হত তা হলে পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াত ৮৪০ মিলিমিটার। এই হিসেব থেকে একটা জিনিস প্রমাণিত, গত মঙ্গলবার যে হারে মুম্বইয়ে বৃষ্টি হয়েছে, তার দ্বিগুনের বেশি হারে বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। তবে এটা শুধুই তথ্যের খাতিরে বলা। আদতে কলকাতায় একটানা এতটা দাপুটে বৃষ্টির ইতিহাস খুব একটা নেই। মূলত কম সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিই কলকাতার চরিত্র। সেই বৃষ্টিই অবশ্য কলকাতাকে ভাসিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।

তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে এবং সেগুলি হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষেই। কলকাতার ইতিহাসে রেকর্ড বৃষ্টিগুলো সব সেপ্টেম্বরের শেষে হয়েছে। নীচে একটা তালিকায় সেটা দেখানো হল।

১) ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ – ৩৭০ মিমি বৃষ্টিতে ভসে গিয়েছিল শহর। এর পরেই বাংলার ইতিহাসে সেই কুখ্যাত ‘৭৮’-এর বন্যা।

২) ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ – ৩১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র বারো ঘণ্টায়। তিনটে বজ্রগর্ভ মেঘ সে দিন ভেঙে পড়েছিল কলকাতার ওপর।

৩) ২২ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ – ২১১ মিমি। কলকাতার ইতিহাসে তৃতীয় সর্বাধিক বৃষ্টি। সময়টা একই। মহালয়ার আগের সন্ধ্যায় এই বৃষ্টির রেশ চলেছিল পুজোতেও।

৪) ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৭ – ৪৪০ মিমি। পুজো তখনও দিন কুড়ি বাকি। তাই পুজোর আনন্দ মাটি হয়নি। কিন্তু তিন দিনের এই প্রবল বৃষ্টিতে বানভাসির চেহারা নেয় কলকাতা।

এই রেকর্ড বৃষ্টির কারণ কী?

মূলত নিম্নচাপের বাড়বাড়ন্ত। বর্ষার শেষ প্রান্তে মানে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ মরসুম শুরু। সেই নিম্নচাপের বেশির ভাগই পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এর ফলে ব্যাপক বৃষ্টি হয় কলকাতায় তবে শুক্রবারের বৃষ্টির সঙ্গে নিম্নচাপের কোনো সম্পর্ক ছিল না। মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেই এই বৃষ্টি নেমেছিল শহরে।

তা হলে এ বার পুজো ভাসবে?

‘হিস্টরি রিপিট্‌স ইটসেলফ’ বলে একটা কথা আছে। তবে বৃষ্টির ‘হিস্টরি’ আদৌ ‘রিপিট’ হবে কি না সে ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। পুজোয় আবহাওয়া কেমন থাকবে সে ব্যাপারে এখনই কিছু পূর্বাভাস দিতে পারছেন না আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আরও অন্তত দিন দশেক অপেক্ষা করতে চাইছেন তাঁরা।

তবে প্রাথমিক ভাবে বিশ্লেষণ করে পুজোয় এখনও ভাসিয়ে দেওয়া বৃষ্টির কোনো ইঙ্গিত পাননি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার তথা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। তাঁর কথায়, “সঠিক পূর্বাভাস করার সময় এখনও আসেনি তবে প্রাথমিক ভাবে যা বুঝছি তাতে মনে হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চারে অল্প সময়ে মাঝারি বৃষ্টিই হতে পারে।” পুজোর সময় কোনো নিম্নচাপ হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনও কোনো পূর্বাভাস করেননি রবীন্দ্রবাবু।

সুতরাং পুজোয় কী হবে এখন থেকে না ভেবে মা দুর্গার ওপরেই ছেড়ে দিন। মা নিশ্চয়ই সব কিছু ভালোয় ভালোয় উতরে দেবে। বলো ‘দুগ্‌গা মাঈ কী জয়’।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন