সৌমিত্র খাঁয়ের আবেদন মঞ্জুর কলকাতা হাইকোর্টে

0
Soumitra Khan
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের বাঁকুড়ায় ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করল উচ্চ আদালত।

গত ২০১৪ সালে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী সৌমিত্র এ বারের লোকসভা ভোটের আগেই যোগ দেন গেরুয়া শিবিরে। তার পর পরই সৌমিত্রর বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা-সহ অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগেই তাঁর বাঁকুড়ায় ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। জেলায় ঢোকার আবেদন নিয়ে সৌমিত্র দ্বারস্থ হল সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু সেখানেও সুরাহা পাননি বর্তমানে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র।

এ বারের ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জেতার পর সৌমিত্র হাইকোর্টে আবেদনে জানান, তিনি এলাকার নির্বাচিত সাংসদ। স্বাভাবিক কারণেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা মেনে এলাকায় ঢুকতে না পারার জন্য কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষের জন্যে। সৌমিত্র এমন আবেদনের পরই এ দিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বাঁকুড়ায় ঢুকতে পারবেন সৌমিত্র।

তৃণমূল ছাড়ার পরে যা হয়েছিল

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই একটি প্রতারণা মামলায় জড়িয়ে যায় সৌমিত্রবাবুর নাম। চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা নেওয়ার পরেও চাকরি দেওয়া হয়নি, এই অভিযোগ তোলেন সৌমিত্রর পিসতুতো ভাই। এরপরই আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সৌমিত্রবাবু। গত ২৭ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চারটি মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, সৌমিত্র খাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু সৌমিত্রবাবুও বাঁকুড়ায় ঢুকতে পারবেন না বলে স্পষ্ট করে দেয় আদালত। এর পর বাঁকুড়ায় প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও কয়েক দফা বাড়ায় হাইকোর্ট। তবে নির্বাচনী প্রচারে সশরীরে অংশ নিতে না পারলেও শিবির বদল করেও ভোটে জিতে ফের সংসদে যান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছিল?

বাঁকুড়ায় ঢোকা তার খুবই প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল সে সময়। নইলে মনোনয়নপত্র জমা করতে পারছিলেন না বিজেপি প্রার্থী। সেই আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সৌমিত্রকে এক দিনের জন্য বাঁকুড়ায় প্রবেশের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি দেয়। বলা হয়, মাত্র এক দিনের জন্য তিনি বাঁকুড়ায় প্রবেশ করে নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা করতে পারবেন। তবে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, তাঁর বাঁকুড়ায় প্রবেশের উপর হাইকোর্টের যে সমস্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা শিথিল করতে হাইকোর্টের কাছেই আবেদন করতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here