স্কুলের বকেয়া ফি মেটানোর সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

0
High Court and Teacher
টেট মামলায় বেনজির নির্দেশ হাইকোর্টের! প্রতীকী ছবি

কলকাতা: করোনাভাইরাস লকডাউনে (Coronavirus lockdown) প্রায় চার মাস বন্ধ স্কুল। তবে এই সময়কালে স্কুলের ফি মেটাতেই হবে অভিভাবকদের। মঙ্গলবার এমন নির্দেশ দিয়ে ফি মেটানোর সময়সীমাও বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)।

গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে লকডাউনের জেরে বন্ধ রয়েছে স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে অনলাইন এবং অফলাইনে সাধ্যমতো চলছে পঠনপাঠন। এমন পরিস্থিতি স্কুলের ফি নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের মতবিরোধের রেশ গড়িয়েছে উচ্চ আদালতে। ফি মকুবের আবেদন জমা পড়ে কলকাতা হাইকোর্টে।

তবে ওই জনস্বার্থ মামলাটির শুনানিতে এ দিন হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মৌসুমি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দেন। উল্টে নির্দেশ দেন, কত দিনের মধ্যে ওই বকেয়া ফি জমা করতে হবে।

বেঞ্চ বলে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত যে পরিমাণ টাকা বকেয়া থাকবে, তার কমপক্ষে ৮০ শতাংশ ১৫ আগস্টের মধ্যে জমা করতে হবে। অন্য দিকে যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা যেন পুরো টাকাটাই মিটিয়ে দেন।

বেশ কয়েক মাস ধরেই স্কুলের ফি নিয়ে কলকাতা-সহ জেলার বেসরকারি স্কুলগুলির সঙ্গে অভিভাবকদের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসে। কোথাও কোথাও অভিভাবকরা আন্দোলনের পথেও গিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে অভিভাবকরা খুশি হতে পারছেন না!

কী বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট?

এর আগে সুপ্রিম কোর্টেও ফি কমানোর একটি আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবডের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, “সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ, প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা পৃথক এবং সুপ্রিম কোর্টে আসার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উচ্চ আদালতের (High Court) কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল”।

আবেদনকারীদের আর্জি প্রত্যাহার করার কারণ হিসাবে বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা আলাদা হওয়ায় এটির সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি জড়িত রয়েছে।

বেঞ্চ আবেদনকারীকে বলে, “আপনি পুরো দেশের হয়ে একটি আবেদন করেছেন। এটিতে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে আমরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। কারণ আমরা জানি না যে পুরো দেশের জন্য কে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা আলাদা”।

আবেদনে বলা হয়েছিল, অনলাইনে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম নিয়ে আসা প্রয়োজন। সশরীরে স্কুলে গিয়ে পঠনপাঠনের জন্য যে পরিমাণ ফি ধার্য্য করা হয়, অনলাইনের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ হ্রাস করা হোক।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন