kolkata rain

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বাঁকুড়া : বর্ষার প্রথম প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ল কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সেই সঙ্গে বজ্রপাতে ফের প্রাণহানি ঘটল রাজ্যে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টের কিছু পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা জুড়ে। তবে তার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই ঝড়বৃষ্টি দাপট দেখিয়েছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও। গত দু’দিন ধরে বজ্রপাতের ফলে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে রাজ্যে। এ দিনও বাজ পড়ে বাঁকুড়ায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, বাঁকুড়া জেলার জয়পুর থানার রাজগ্রাম এলাকায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। মৃতেরা হলেন লক্ষ্মী মাঝি (৩২) ও তার মেয়ে পায়েল মাঝি (১২)। বৃষ্টির সময় মাঠে গোরু আনতে গিয়ে এই ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। বজ্রস্পৃষ্ট মা ও মেয়েকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দিকে ওন্দার পুনিশোল-এর চৌমুড়া গ্রামে সাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হল এক জনের । মৃতের নাম আবদুল আলি খান (৩৫)। চাষের জন্য জমি তৈরি করতে গিয়েছিলেন ওই যুবক। সেখানেই ওই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বজ্রস্পৃষ্ট এই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। অন্য দিকে সোনামুখী থানার নিত্যানন্দপুরে মাঠের কাজ করার সময় বজ্রস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ৪৫ বছরের রঞ্জিত দাসের।

কলকাতায় বৃষ্টির দাপট এ দিন অনেক বেশি ছিল। মাত্র এক ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির পর জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ঝড়ের দাপটে কিছু অঞ্চলে গাছ পড়ারও খবর পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

মৌসুমি অক্ষরেখা এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে থাকার ফলে জলীয় বাষ্পের প্রভাবে স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। সেই মেঘই মঙ্গলবার দুপুরের পর শহরের ওপরে ভেঙে পড়ে।

বুধবারও এ রকম বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন