সাড়ে ১৩ মাস পর কলকাতায় সক্রিয় কোভিডরোগীর সংখ্যা এক হাজারের নীচে

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: গত বছর ৩০ মে কলকাতায় সক্রিয় কোভিডরোগীর সংখ্যা ছিল ৯৮০। পরের দিনই সেটা এক হাজার পেরিয়ে যায়। এর পর এক বছর দেড় মাস কেটে গিয়েছে। অবশেষে আজ, মঙ্গলবার শহরে সক্রিয় কোভিডরোগীর সংখ্যাটি ফের এক হাজারের নীচে নেমে এসেছে।

এ দিন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, কলকাতায় বর্তমানে ৯৯১ জন কোভিডরোগীর চিকিৎসা চলছে। ইতিমধ্যেই মোট রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন ৩ লক্ষ ৩ হাজার ৩৩১ জন। বাকি ৪ হাজার ৯৫০ জনের দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত দেড় বছরে গোটা দেশে মূলত করোনার দুটো ঢেউ প্রতক্ষ করেছে। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে শহরে তিনটে ঢেউ এসেছিল।

২০২০ সালের ৩১ মে থেকে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাটি হাজার পেরিয়ে আরও বাড়তে থাকে। আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত টানা বেড়ে ৭ হাজারে পৌঁছে যাওয়ার পর কমতে শুরু করে সংখ্যাটি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা টানা কমছিল। এক সময় এটি ৪ হাজারের ঘরে নেমে এসেছিল।

Shyamsundar

তবে দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কেনাকাটির ভিড়ের কারণে ফের সক্রিয় রোগী বাড়তে শুরু করে কলকাতায়। তখনই শহরের দ্বিতীয় ঢেউ এসেছিল বলা চলে। সেটা ক্রমশ বাড়তে বাড়তে নভেম্বরের মাঝামাঝি সাড়ে ৭ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। গত বছরের কলকাতার সক্রিয় রোগীর চূড়া ছিল সেটাই। তার পর থেকে ক্রমশ কমতে থাকে সংখ্যাটি।

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত শহরে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাটি ভালো গতিতেই কমছিল। তবে ১ হাজার ৫০-এর বেশি আর কমতে পারেনি। ফলে সে যাত্রায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যাটি হাজারের নীচে আসেনি। এরই মধ্যে দেশে আছড়ে পড়ল বিধ্বংসী দ্বিতীয় ঢেউ, কলকাতার ক্ষেত্রে তাকে তৃতীয় ঢেউও বলা চলে।

২০২০-এর রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়ে বাড়তে থাকল সংক্রমণ। লাগামছাড়া সংক্রমণে নাজেহাল অবস্থা তখন কলকাতার। দৈনিক চার হাজার রোগী তখন সামলাতে হচ্ছে কলকাতাকে। সক্রিয় রোগীও লাগাতার বাড়তে বাড়তে মে’র দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৭ হাজারে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকেই কমতে শুরু করেছিল দৈনিক সংক্রমণ।

পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের নিম্নগামী যাত্রা শুরু হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগেই তা শুরু হয়েছিল কলকাতায়। নিমেষের মধ্যেই সংক্রমণে বড়ো বড়ো পতন দেখা যেতে শুরু করে। মাত্রা দু’মাসের মধ্যেই কলকাতার দৈনিক সংক্রমণ চার হাজারের ঘর থেকে নেমে ১০০-এর নীচে চলে আসে। একই সঙ্গে ক্রমশ কমছিল সক্রিয় রোগীও। অবশেষে এ দিন তা হাজারের নীচে নামল।

আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে আগামী দু’এক মাসে সক্রিয় রোগীর এই সংখ্যাটি আরও কমতে পারে। তবে এক শ্রেণির বিশেষজ্ঞের দাবিমত তৃতীয় ঢেউ যদি সত্যিই আসে, তা হলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা যে ফের বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আরও পড়তে পারেন টেস্ট বাড়ার পরেও নতুন সংক্রমণ কমল পশ্চিমবঙ্গে, তবে কিছুটা বাড়ল মৃতের সংখ্যা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন