কলকাতা: কলকাতা এক দিন ‘গাড়ির হর্নের শব্দ মুক্ত’ শহর হয়ে উঠবে। ঠিক এমন একটা স্বপ্নই দেখেন তিনি। সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে নিজেই পা বাড়িয়েছিলেন ১৮ বছর আগেই। গত আঠেরো বছরে গাড়ি চালাতে চালাতে এক বারও হর্ন বাজানি। অথচ গাড়ি চালিয়েছেন শহরের বিভিন্ন পথে, অলিতে গলিতে। শুধু শহরেই না হর্ন না বাজিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গেছেন দার্জিলিং, এমনকি সিকিমেও। ভাবাই যায় না। গাড়ির হর্ন না বাজিয়ে কলকাতার মতো রাস্তায়! আবার পাহাড়ি এলাকায়! অবিশ্বাস্য।

এমনই অবিশ্বাস্যকেই বিশ্বাস্য করে তুলেছেন বলেই তো ‘কলকাতা মানুষ সম্মান পুরস্কার’ পাচ্ছেন তিনি।

কলকাতার ড্রাইভার দীপক দাস এ বারে ২০১৭ মানুষ সম্মানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তাঁর ১৮ বছরের ড্রাইভার জীবনের এটাই সব থেকে বড়ো কৃতিত্ব। তাঁর এই অক্লান্ত প্রচেষ্টা গাড়ি চালানোর ইতিহাসে একটা নজির তৈরি করেছে। তিনি বলেন, যদি কোনো চালকের সময়, জায়গা আর গতির সম্পর্কে ঠিকঠাক ধারণা থাকে তা হলেই আর হর্ন বাজাতে হয় না।

শব্দ দূষণ বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই তাঁর এই প্রচেষ্টা।

তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্বের সাক্ষী তবলা বাদক পণ্ডিত তন্ময় বোস, গিটারবাদক কুনালের মতো অনেকেই। এঁরা প্রত্যেকেই বহুবার দীপক দাসের গাড়িটি ভাড়া করেছেন। ফলে সকলেই তাঁর এই বিশেষ গুণটার সঙ্গে পরিচিত।

দীপকবাবু বলেন, তিনি মনে করেন প্রত্যেক চালকের উচিত ‘হর্ন পলিসি’ মেনে চলা। তা হলেই গাড়ি চালানোর সময় অনেক বেশি মনোযোগী ও সচেতন হওয়া যায়। এটা করা অসম্ভব নয়। কঠিনও নয়। এর জন্য প্রশাসনিক আর রাজনৈতিক সহযোগিতার দরকার মাত্র।

তাঁর গাড়িতে একটা প্ল্যাকার্ড লাগানো থাকে। তাতে লেখা থাকে, “হর্ন ইজ কনসেপ্ট। আই কেয়ার ফর ইওর হার্ট”।

‘মানুষ মেলা ২০১৭’-র উদ্যোক্তাদের অন্যতম এক জন সুদীপা সরকার বলেন, যাঁরাই দীপক দাসের গাড়ি ভাড়া করেছেন, চড়েছেন তাঁরা সকলেই তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্বের কথা মেনে নিয়েছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মানুষ মেলার এটা দ্বিতীয় বছর। যাঁরাই সমাজের জন্য নিজের চেষ্টায় অন্য রকম কিছু করার চেষ্টা করেন তাঁদেরই এই সম্মানে সম্মানিত করা হয়। গত বছরে সম্মানিত করা হয়েছিল বীণা উপাধ্যায়কে। তিনি নিজের আর্থিক অস্বচ্ছলতা সত্ত্বেও রাস্তার পশুদের উদ্ধার আর তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কাজ করে চলেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here