নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান:  বর্ধমানের মহারাজার ঐতিহ্য অনুযায়ী পৌষ সংক্রান্তির দিনই বর্ধমানের ঘুড়ির মেলা। পৌষ মাসের শেষ দিন রাজা থেকে প্রজা সকলের চোখ আকাশের দিকে। ঘুড়ির ঝাঁক ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না । তবে প্রস্তুতি চলে এক মাস আগে থেকেই। শহরের বাজার জুড়ে অসংখ্য ঘুড়ি বিক্রেতা পেট-কাটি, চাদিয়াল, মোমবাতি, বগ্‌গার পসরা নিয়ে বসে ।  ঘুড়ি বাইরে থেকে আমদানি নয়। দীর্ঘ মোঘল যুগ থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জন এই  ঘুড়ি শিল্পের সাথে যুক্ত। সারা বছরই ঘুড়ি তৈরি করে যান। বিশ্বকর্মা পুজোতে রফতানি হয় কলকাতায়। এছাড়াও সারা বছরই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে  বর্ধমানের তৈরি ঘুড়ি রফতানি হয়। যার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০০০ পরিবারের রুজি রোজগার।

 পৌষের শেষে  বর্ধমানের সদরঘাট, রাজবাড়ি, সর্বমঙ্গলা পাড়ায় ঘুড়ির মেলা। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে আকাশে দেখা নেই ঘুড়ির। বর্ধমানের এক ঘুড়ি কারখানার মালিক নাজির হোসেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ঘুড়ি বানিয়ে তা বাজারে বিক্রির কাজ করছেন । কিন্তু এ বছর তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার জোগার। প্রত্যেক বছর এই সময় ভোক্কাট্টা শব্দে অতিষ্ঠ গৃহিণী এ বছর শান্তির নিদ্রা নিচ্ছেন। ঘুড়ির বাজারে ভাটা। নাজিরবাবু জানাচ্ছেন, কোনো বছর এরকম খারাপ ব্যবসা হয় না । প্রত্যেক বছর গোটা পৌষ মাস ধরে কারখানায় কচিকাঁচাদের ভির থাকতো, রোজ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ঘুড়ি বিক্রি হতো আর এবছর ৫০০ টাকা বিক্রি হতেই সূর্য ডুবে যাচ্ছে। মানুষের হাতে খুচরো টাকা নেই। এটিএম, পেটিএম এসব আমরা বুঝিনা। মহাজন আমাদের থেকে নগদ টাকা চায়। আমরাও খদ্দেরদের কাছ থেকে নগদ টাকা চাই। 

লেস ক্যাশ-এর ঘুড়ি উত্তুরে হাওয়ায় পাচ্ছে না উড়াল। চিন্তা বাড়ছে ঘুড়ি-শ্রমিকদের।                

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here