নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিজেদের পেটের ভাত জোগানোর দায়িত্ব নিজেরাই কাঁধে তুলে নিলেন শ্রমিকরা। নিজেরাই সংগঠিত ভাবে বন্ধ বাগান চালানোর উদ্যোগ নিলেন।

শনিবার নয়াসাইলি চা-বাগানে শ্রমিকরা চা-পাতা তোলা ও বাগানে গাছ পরিচর্যার কাজ শুরু করেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় একই সঙ্গে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে ডুয়ার্সের চা-বলয়ে।

শনিবারও বাগান খোলা নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। এর পরেই শ্রমিকরা আলোচনা করে বাগানের কাজ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শীতের মরশুম চা-গাছের পরিচর্যার সময়। পরিচর্যার অভাবে বাগানের চা-গাছগুলির ক্ষতি হয়, যার প্রভাব পড়ে নতুন চা-পাতা উৎপাদনে। তাই পুরোদমে শনিবারই শুরু হয়ে যায় গাছ পরিচর্যা, পাতা তোলার কাজ। এই কাজে যোগ দেন বাগানের সমস্ত শ্রমিক। 

বাগানের শ্রমিক গীতা লোহারের বক্তব্য, এই বাগান তাঁদেরও। তাই মালিকপক্ষ বাগান না খুললেও তাঁরাই দায়িত্ব নিয়ে বাগান চালাবেন। বিজয় লাকড়া নামে এক শ্রমিক জানিয়েছেন, নতুন পাতা উঠলে তা বাইরে বিক্রি করে রুজির সংস্থান করবেন তাঁরা।

এ দিকে বাগানের মালিকপক্ষ এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে বাগান খোলা নিয়ে সমাধানসূত্র বের করতে শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মালিকপক্ষ।

প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকের এই নয়াসাইলি চা-বাগানে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ১৮৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। চলতি বছরে সেপ্টেম্বর মাসে আর্থিক রুগ্নতার কারণ দেখিয়ে ১৬% পুজোর বোনাস দেওয়ার কথা ঘোষণা করে বাগান কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি ছিল, অন্য বাগানগুলির মতো তাঁদেরও ১৯% বোনাস দিতে হবে। এই নিয়ে বাগানে শুরু হয় শ্রমিক বিক্ষোভ আর তার জেরে পুজোর আগেই ২৪ সেপ্টেম্বর ‘সাসপেনশন ওফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস ঝুলিয়ে বাগান ছেড়ে পালিয়ে যান মালিকপক্ষ। তাঁদের অভিযোগ ছিল, শ্রমিক-বিক্ষোভের জেরে তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কাজ হারিয়ে অসহায় শ্রমিকরা লাগাতার আন্দোলন করতে থাকেন। এগিয়ে আসে শ্রম দফতরও। প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েকবার শ্রমিক-মালিক বৈঠক হলেও তা ভেস্তে যায়।

অর্ধাহারে কাটানো পরিবারের মুখে আপাতত দু’টো ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন শ্রমিকরা। তবে মালিক ছাড়া এই ভাবে কত দিন চলবে, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াছে চা-বাগান শ্রমিক মহলে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here