hilla tea garden

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল ডুয়ার্সের হিলা চা বাগান। দীর্ঘক্ষণ বাগানের ম্যানেজারকে ঘেরাও করে রাখা হয়। চা কারখানার অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। নাগরাকাটা থানা থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে চাপা উত্তেজনা এখনও রয়েছে।

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার হিলা চা বাগান। শ্রমিকসংখ্যা প্রায় ৬৫০। এক সময় চা বাগানটি রাজ্য সরকারের অধীনে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে রুগ্ন হয়ে পড়ায় সেটিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৫ সালে বাগানটির দায়িত্ব নেয় মিত্তল শিল্পগোষ্ঠী। শ্রমিকদের অভিযোগ,  বেসরকারিকরণ হওয়ার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। তাদের অভিযোগের তির মূলত বাগানের ম্যানেজার ব্রিজেশ রায়ের দিকে। কাজের সময় নিয়ে ম্যানেজমেন্ট ও শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি দিনই ঝামেলা লেগে থাকত।

বাগানের ম্যানেজার ব্রিজেশ রায়ের অভিযোগ, বাগানে বেশ কিছু অবৈধ চোলাই মদের ঠেক চালায় কিছু দুষ্কৃতী। সেখান থেকে নেশা করে এক শ্রেণির শ্রমিক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাজে আসে। কাজের সময় বা বাগানের কোনো নিয়ম তারা মানে না। কাজ না করে,  বরং তারা অন্য শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কাজের ক্ষতি করে। এর ফলে বাগান আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন বাগান ম্যানেজার।

এ দিকে পালটা অভিযোগ জানিয়ে শ্রমিকদের বক্তব্য,  বাগান ম্যানেজার সময়ের বাইরে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করায়।দুর্গা মাহালি নামে এক শ্রমিক জানিয়েছেন, রাতের শিফটে মহিলাদের দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয়। হেমন্ত এক্কা নামে এক শ্রমিক অভিযোগ জানিয়ে বলেন,  ম্যানেজার আর তাঁর অধস্তন কর্মীরা শ্রমিকদের মারধরও করেন। বাগানের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং স্কুলে যাতায়াতের জন্য বাস পরিষেবা সহ অন্যান্য পরিষেবাও ভালো নয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন অধিকাংশ শ্রমিক।

labourers' demonstration
বিক্ষোভে শ্রমিকরা।

এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাগানে একটা অসন্তোষ চলছিল দু’ পক্ষের মধ্যে। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। বাগান থেকে মিছিল করে চলে আসেন চা কারখানার সামনে। সেখানেই ম্যানেজারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। অভিযোগ, পাথর ছুড়ে অফিসের দরজা,  জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়।পটকা বোমাও ছুড়ে দেওয়া হয় অফিস ঘরে। এই  অভিযোগ ম্যানেজার ব্রিজেশ রায়ের। ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি তাঁর। এর পরেই খবর যায় নাগরাকাটা থানায়। সেখান থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে।

ম্যানেজার ব্রিজেশ রায় জানিয়েছেন,  তিনি বাগানের মধ্যে অবৈধ মদের ঠেকগুলি বন্ধ করার চেষ্টা করছিলেন। সেই সঙ্গে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা করছিলেন। তাঁর অভিযোগ,  যে সব দুষ্কৃতী বাগানে অবৈধ মদের ঠেক চালায় তাদের উসকানিতেই এ দিনের এই ঘটনা ঘটিয়েছে শ্রমিকরা। যদিও এই অভিযোগ মানাতে নারাজ শ্রমিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন,  তাঁরা এই ম্যানেজারের অপসারণ চান।

এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কার মেঘ দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। এমনিতেই উত্তরের চা বাগানগুলি নানা সমস্যায় জেরবার। সেখানে এই ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে চা বলয়ে। বামপন্থী চা শ্রমিক নেতা জিয়াউল আলম জানিয়েছেন,  সমস্যা যা-ই হোক, তা আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করতে হবে। চা বাগান মালিকদের সংগঠনের উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক অমিতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন,  আজকের মতো ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। এই ধরনের ঘটনা আখেরে চা শিল্পেরই ক্ষতি ডেকে আনবে। তিনিও আলোচনার টেবিলেই সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। এই বাগানে মূলত তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনগুলিরই প্রভাব রয়েছে। আইএনটিটিইউসি’র জেলা সভাপতি মিঠু মোহন্ত জানিয়েছেন,  তাঁরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অচিরেই সমস্যা মিটে যাবে। তবে বাগানে চাপা উত্তেজনা থাকায় সেখানে পুলিশ নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাগরাকাটা থানার ওসি নন্দদুলাল দত্ত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here