নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : তৈরি হবে উড়ালপুল। তাই সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে গাছ কাটতে গিয়েছিলেন পুর্ত ও বন দফতরের কর্মীরা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির কাছ থেকে বাধা পেয়ে ফিরে আসতে হল তাঁদের।

জলপাইগুড়ির লাটাগুড়িতে রয়েছে গরুমারা জাতীয় উদ্যান। তার বুক চিরে চলে গিয়েছে ৩১ নং জাতীয় সড়ক। শিলিগুড়ি থেকে চ্যাংরাবান্ধাগামী রেললাইন গিয়েছে এই জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে। গরুমারা বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বিছাভাঙা লেভেল ক্রসিং। এই লেভেল ক্রসিং-এর জায়গায় উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর। কিন্তু এই সেতু তৈরি করতে গেলে কেটে ফেলতে হবে জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ৫৫০টি গাছ। জলপাইগুড়ি বনবিভাগ সেই অনুমতি দিয়েও দিয়েছে পুর্ত দফতরকে। সোমবার দুই দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা সেখানে যান। শুরু হয় গাছ কাটার কাজ। একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকে শাল, সেগুন। এর পরেই খবর পেয়ে সেখানে চলে আসেন বেশ কয়েকটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। আসেন লাটাগুড়ির বাসিন্দারা। তাঁরা গাছ কাটতে বাধা দেন। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি, যদিও তত ক্ষণে ১০টি গাছ কাটা হয়ে গিয়েছে। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গাছ কাটা বন্ধ রাখে বন দফতর।

পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির বক্তব্য, যেখানে এমনিতেই বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেখানে ৫৫০টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত মারাত্মক। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডের অভিযোগ, পরিবেশের ক্ষতির চিন্তা না করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ। এক সঙ্গে এত গাছ কাটার আগে যে ধরনের সার্ভে করা উচিত তা-ও বন দফতর করেনি বলে অভিযোগ তাঁর। অন্য দিকে আরও একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, উড়ালপুলের বদলে আন্ডারপাস তৈরি করলে এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। তারা আগেও এই প্রস্তাব দিয়েছে বন দফতরকে। কিন্তু বন দফতর নিজের মর্জিমাফিক কাজ করে চলছে বলে অভিযোগ স্বেছাসেবী সংগঠনগুলির।

এর আগেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন তাঁরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বাসিন্দারাও। পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির হুঁশিয়ারি, বনাঞ্চল ধ্বংস করার এই পদক্ষেপ বন্ধ না হলে তারা লাগাতার আন্দোলনে নামবে। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, “তাঁরা এই বিষয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন।” এ দিকে পুর্ত দফতরের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল দে জানিয়েছেন, “সমস্ত ঘটনা দফতরের আধিকারিককে জানানোর পর তাঁর নির্দেশমতো কাজ করা হবে।” এখন পরিবেশ বাঁচিয়ে কাজ করতে কতটা উদ্যোগী হয় বন দফতর, সে দিকেই তাকিয়ে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here