Left Front
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: বিজেপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সমান দূরত্ব বজায় রাখার দাবিতে আগেই সরব হয়েছে বামফ্রন্টের অন্যতন শরিক আরএসপি, সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লক। লোকসভা ভোটের মুখে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় চাপ সৃষ্টি করা হলে তারা ফ্রন্ট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট করছে। সমস্যার সমাধানে বৃহস্পতি বার রাজ্য সিপিএমের সদর দফতরে বৈঠকে বসছে বড়ো শরিক সিপিএম।

আরও পড়ুন কয়েক হাজার কৃষককে নিয়ে ১১ মাস পর মুম্বইয়ের উদ্দেশে ফের লং মার্চ কৃষকসভার

রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতা এবং কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধিতার দোহাই দিয়ে সিপিএম আগামী লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হাত ধরতে চলেছে বলে আগেই অভিযোগ করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক। হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, সিপিএম যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট অথবা যে কোনো রকমের নির্বাচনী সমঝোতার পথে যায়, সে ক্ষেত্রে তারা বামফ্রন্টের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেও পিছপা হবে না। ওই বামপন্থী দলের বিধায়ক আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর) সিপিএম নেতৃত্বের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস-ফ্রন্ট জোট হলেও তাঁর জেলায় ফরওয়ার্ড ব্লক পৃথক প্রার্থী দেবে।

কয়েক মাস আগেই ভিক্টর নাম ধরেই মন্তব্য করেছিলেন, “সিপিএম নেতারা দিল্লিতে গিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে আওয়াজ তুলছেন বিজেপি হঠাও। আর রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত ধরে বলছেন, তৃণমূল হঠাও। সিপিএমের এই ভণ্ডামি ধরা পড়া গিয়েছে। মানুষ আর বিশ্বাস করছে না এই দলকে”।

একই পথের পথিক আরএসপি। দলের সাধারণ সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী জানিয়েছেন, “বাংলায় কংগ্রেসের হাত ধরার প্রয়োজন নেই। আমরা বামফ্রন্ট গত ভাবেই লড়তে আগ্রহী।”

একই ভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছাড়াই ভোটে যেতে আগ্রহী সিপিআই। তবে লোকসভার যুদ্ধে যদি গত বিধানসভা ভোটের মতো কংগ্রেসের হাত ধরতেই হয়, তা হলে শরিকদের মতকেও মান্যতা দেওয়ার দাবি উঠেছে। কংগ্রেসের সঙ্গে বামফ্রন্টের জোট নিয়ে শুধু রাহুল গান্ধী এবং সীতারাম ইয়েচুরির মতে ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তগ্রহণে ঘোর আপত্তি রয়েছে শরিকদের। সে ক্ষেত্রে শরিকদের উপস্থিতিতে এবং তাদের মতকে সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। তা না হলে তারা পৃথক ভাবে পার্থী দিতে বদ্ধপরিকর বলে চরম বার্তা দিয়ে রেখেছে।

এ দিন বিকালে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম সদর দফতরের বৈঠকে আলোচ্য বিষয় মূলত সেটাই। প্রদেশ কংগ্রেস আগেই জানিয়ে দিয়েছে, হাইকম্যান্ডের নির্দেশ অনুসারেই এ মাসের মধ্যে তারা রাজ্যের ৪২টি আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলবে। ফলে কংগ্রেসের কাছে জোটের বার্তা পৌঁছে দিতে তড়িঘড়ি শরিকি-বিবাদ মেটাতে চাইছে সিপিএম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here