cpim and congress

ওয়েবডেস্ক:  নদিয়ার মতো তথাকথিত বামঘাঁটিতে একটি জেলা পরিষদ বা কয়েকটি জেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সমিতিতে এগিয়ে থাকলেও ভোট গণনার ১৪ ঘণ্টা পরেও এই দুই স্তরে শুধুই ক্ষয়ের ছবি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে বামফ্রন্টের।  মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই যে এ ভাবে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে, তা সম্ভবত ঘূণাক্ষরেও টের পাননি সিপিএম নেতৃত্ব। ২০১৩-র পঞ্চায়ত নির্বাচনে ১৫,৬১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয় পাওয়া বামফ্রন্ট এ বার মেরেকেটে চার অঙ্কের আসন সংখ্যা পার হয়েছে। এ বার অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ৩৪ শতাংশ বুথে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। তবুও এক ধাক্কায় তাদের প্রাপ্ত আসন যে গত বারের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশে এসে ঠেকছে, তা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।

বামেদের এই শোচনীয় পরিস্থিতির জন্য দায় নেওয়ার থেকে দায়ী করার চিরাচরিত ধারাই অব্যাহত রয়েছে। বাম নেতৃত্ব দাবি করছেন, তৃণমূলের সহযোগিতায় বিজেপির উত্থানের জন্যই তাঁদের এই চরম পরিণতি। দল যে জানত এ বার ভোটে গতবারের মতো সুবিধা করা যাবে না, সেটাও স্পষ্ট। কিন্তু গত বার ২৮২৯টি সমিতিতে জয় পাওয়া বামফ্রন্ট ভোট গণনার প্ৰথম দিন পর্যন্ত যে খাতাই খুলতে পারবে না, সেই বিষয়টির আভাস একটি বারের জন্যও তাঁরা পাননি। এ ব্যাপারে সিপিএমের এক রাজ্য নেতা বলেন, ফলাফল খারাপ হবে জানতাম। সেই কারণেই তো কংগ্রেস এবং নির্দল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার কথা সরাসরি বলেছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র স্বয়ং। কিন্তু এই বিপর্যয় কল্পনার বাইরে।

বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ হবে না। কিন্তু ট্রেন্ড বলছে, ২০টি জেলাই যেতে চলেছে তৃণমূলের দখলে। তবে জেলা পরিষদের আসনেও তো বামেদের দখলে ছিল ২১৩টি আসন। এ বার খাতা খোলা সম্ভব হয়নি ২০টি জেলার কোনোটিতেই।

মাত্র দু-বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনেও সিপিএম প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। পঞ্চায়েতের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর সেই হার যে কল্পনাতীত ভাবে কমবে, তা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here