নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : বারবার লোকালয়ে চিতাবাঘের হানায় আতঙ্কিত জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ। গত সপ্তাহে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগানে চিতাবাঘের আক্রমণে জখম হয়েছিলেন এক চা-শ্রমিক। ওই সপ্তাহেই ময়নাগুড়ির দোমহনীতেও জখম হয়েছিলেন এক জন। শুক্রবার ফের চিতাবাঘের আক্রমণে আহত দু’ জন। এ বার ময়নাগুড়ির আমগুড়িতে।

শুক্রবার সকালে নিজের ছোটো চা-বাগানে কাজ করছিলেন বলেন রায়। সেই সময় ঝোপের আড়াল থেকে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শ্বাপদটি। কোনো রকমে দু’ হাতেই তার সঙ্গে লড়াই চালান বলেন। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ। এত লোক এক সঙ্গে দেখে পালিয়ে যায় চিতাবাঘটি। ততক্ষণে রক্তাক্ত বলেন। স্থানীয় কয়েক জন তাঁকে নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে  আসেন। অন্যরা প্রাণীটির খোঁজ শুরু করেন। সেই সময় ফের চা-বাগানের আড়াল থেকে বেরিয়ে অতর্কিতে দেবদাস রায় নামে এক যুবককে রক্তাক্ত করে ফের লুকিয়ে পড়ে চিতাবাঘ। ওই যুবককেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর পর আর ঝুঁকি নেননি গ্রামবাসীরা। তাঁরা খবর দেন জলপাইগুড়ি বন বিভাগে। ঘটনাস্থলে চলে আসেন জলপাইগুড়ি বনবিভাগ ও রামশাই রেঞ্জের বনকর্মীরা। জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় চা-বাগানটি। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের এডিএফও রাজু সরকার জানিয়েছেন, গ্রাম সংলগ্ন রামশাইয়ের জঙ্গল থেকে সহজ শিকারের লোভে চিতাবাঘটি হয়তো লোকালয়ে চলে এসেছে। বনকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালালেও তার আর দেখা পাওয়া যায়নি। কিন্তু চিতাবাঘটি ধরা না পড়ায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অনুমান, চা-বাগানের কোনো নালার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে জন্তুটি। বাগানের পাশে নিজের বাড়ি ছেড়ে রাতে অন্যত্র থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আতঙ্কিত অনেকেই, যদিও বনকর্মীরা রাতভর এলাকায় পাহারায় থাকবেন। তবে তাঁদের অনুমান, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চিতাবাঘটি হয়তো জঙ্গলে ফিরে যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here