নাগরাকাটায় জাতীয় সড়কে গাড়ির ধাক্কায় স্ত্রী চিতাবাঘের মৃত্যু

0
390
leopard killing

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ফের বেপরোয়া গতির বলি আরও একটি বন্যপ্রাণ। এ বার মৃত্যু হল পূর্ণবয়স্ক একটি স্ত্রী চিতাবাঘের। ডুয়ার্সের ৩১ নং জাতীয় সড়কের ঘটনা।

শুক্রবার, রাত ১০:১৫। ডুয়ার্সের জঙ্গল ও চা-বাগিচা সংলগ্ন জনপদ নাগরাকাটার রাস্তা প্রায় শুনশান। সেই সময় নন্দু মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগতির ছোটোগাড়ি চলে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েক জন দেখতে পান কিছু একটা রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তার কাছে ছুটে গিয়ে দেখতে পান সেটি একটি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ। ঘাতক গাড়িটি ততক্ষণে উধাও। চিতাবাঘটির দেহে তখনও প্রাণ ছিল। স্থানীয়রা শুশ্রূষা করে বাঁচানোর চেষ্টা করে সেটিকে। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছোন খুনিয়া রেঞ্জের বনকর্মীরা। আসে নাগরাকাটা থানার পুলিশ। কিন্তু লাভ হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সেটিকে গরুমারায় নিয়ে আসা হয়। বন দফতরের অনুমান চিতাবাঘটি ডায়নার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে বা কোনো চা-বাগান থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে আরেকটি চা-বাগানে যাচ্ছিল। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, আগামী কাল চিতাটির ময়না তদন্ত করা হবে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর ক্ষুদ্ধ পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। কারণ এই প্রথম নয়, এর আগেও ডুয়ার্সের জঙ্গলসংলগ্ন জাতীয় সড়কে একাধিকবার বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে এই ভাবে। চিতা, বাইসন, হরিণ, অজগর, লেপার্ড ক্যাট সহ বহু বন্যপ্রাণ বলি হয়েছে বেপরোয়া গতির। বনদফতর ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি সচেতনতা বাড়াতে লাগাতার প্রচার করেছে। জঙ্গলসংলগ্ন রাস্তায় কম গতিতে গাড়ি চালানো, রাতে কম সংখ্যায় গাড়ি চালানো-সহ বেশ কিছু সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে রাস্তার ধারে। বেশ কিছু দিন আগে এই নন্দু মোড়েই গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল আরও একটি চিতাবাঘের। স্বাভাবিক ভাবেই আজকের ঘটনার পর বোঝাই যাচ্ছে সেই সব প্রচার কাজে আসেনি এতটুকু। বন্যপ্রাণী হত্যা নিয়ে কড়া আইন থাকলেও তা প্রয়োগের সুযোগ মিলছে না। কারণ দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়ি ধরাছোঁয়ার বাইরে পালিয়ে যাচ্ছে। বন দফতরের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পশু ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক অধ্যাপক রাজা রাউত জানিয়েছেন, বন দফতরকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা সব রকম ব্যাবস্থা নিচ্ছেন এই ধরনের ঘটনা রুখতে। আজকের ঘটনায় নাগরাকাটা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছে বন দফতর। নাগরাকাটা থানার ওসি নন্দকুমার দত্ত জানিয়েছেন, ঘাতক গাড়ির খোঁজ শুরু হয়েছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here