বাঘ
mrinal mahat
মৃণাল মাহাত

ঝাড়গ্রাম: বাঘঘরার জঙ্গলে বাঘ হত্যার প্রেক্ষিতে অবিভক্ত মেদিনীপুর জুড়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শোকের ছায়া নেমে এসেছে জঙ্গলমহল জুড়ে। ফেসবুকে জুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ, হা-হুতাশ!

শুক্রবার বাঘঘরার জঙ্গলে বাঘটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পরেই জনতার ঢল নামে শেষ দেখা দেখতে। অভিযোগ, সেঁদরা দিশম বা শিকার উৎসবের নামে বাঘটিকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও শিকারিদের বক্তব্য, আত্মরক্ষার জন্যই বাঘটিকে বল্লমের খোঁচা দেওয়া হয়েছে। বাঘটিই তাদের প্রথম আক্রমণ করে, উপায়ান্তর না পেয়েই তাঁরা পালটা আক্রমণে যেতে বাধ্য হন, এমনই বক্তব্য শিকারিদের।
ঘটনা যা-ই হোক, বাঘ হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট জুড়ে একের পর এক পোস্ট আছড়ে পড়তে থাকে। পলাশ খান নামে এক সাংবাদিক খবরটা পোস্ট করার পরেই শুরু কমেন্ট ঝড়। জয়ন্ত গোস্বামী, রাজু কোলেরা বন দফতরকে দোষারোপ করেন। ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়েও বাঘকে কেন ধরা গেল না,  সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন একাধিক মন্তব্যকারী। ঝাড়গ্রামের এক শিক্ষক অচিন্ত্য ঢালি মন্তব্য করেন, “দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আইন করে জঙ্গলে শিকার বন্ধ করা হোক। একটা হরিণ মারলে যদি জেল হয় তবে বাঘ মারলে কেন হবে না? এত সুন্দর একটা প্রাণীকে আমরা হারালাম। দেড় মাস লালগড়ের জঙ্গলে এসে কারও কোন ক্ষতি করেনি। তবুও কিছু মানুষের আনন্দের খেসারত দিতে হল বাঘটাকে। নিন্দা করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”
প্রভাত ঘোষ, ত্রিলোচন কালিন্দী, পিন্টু মাহাতরা দাবি তোলেন, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। বিশ্বরঞ্জন মাহাত নামে কেশিয়াপাতার এক ব্যবসায়ী বলেন, শিকারীদের ভোটাধিকার কাড়া উচিত! যারা দেশের সম্পদ নষ্ট করে তারা দেশদ্রোহী। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক দলগুলিকে আক্রমণ করে বলেন, আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবে এরা কেউই সেঁদরা দিশম বা শিকার উৎসব বন্ধ করতে উদ্যোগী হচ্ছে না।
বন দফতরের পাশাপাশি মানুষ সব চেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ আদিবাসীদের ‘সেঁদরা দিশম’-এর উপর। শিকার উৎসব বন্ধ করার দাবিতে শয়ে শয়ে পোস্ট আছড়ে পড়তে থাকে ফেসবুকে। পাঁশকুড়ার শিক্ষক ভাস্করব্রত পতি বলেন, “অবিলম্বে শিকার নিষিদ্ধ করা হোক। এ ভাবে ঐতিহ্যের নামে পশুহত্যা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।”
প্রদীপ মাহাত নামে এক ইঞ্জিনিয়ার নিজের ওয়ালে প্রশ্ন তোলেন, “শিকার উৎসবের নামে যারা জঙ্গলে যায় তারা কেউই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলে তো আমার মনে হয় না। স্মার্টফোন থাকছে হাতে, গাড়ি ভাড়া করে আসছে রীতিমতো দূর দূর থেকে; আজ তো খবরের চ্যানেলে দেখলাম কয়েক জন বীরপুঙ্গব বাঘের মৃতদেহের সঙ্গে সেলফি নিয়েছে। এদের এই পাশবিক প্রথা কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না? এত দিন ধরে কেন ভাবা হয়নি? শুধুই ভোটব্যাঙ্ক? তাই কি এদের চটাতে চাইছে না রাজ্য সরকার?”
মোট কথা শিকার পরবের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তর থেকে জনমত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শিকার নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এটাই সঠিক সময় বলে তাঁরা মনে করেন। যদিও শাসক বা বিরোধী কোনো রাজনৈতিক নেতাই এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য না আসায় হতাশ আমজনতা। পঞ্চায়েত ভোটের আগে কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে ওয়াকবিহাল মহলের বক্তব্য। বিভিন্ন পরিবেশ ও পশুপ্রেমী সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার আভাস পাওয়া গিয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন